নতুন বছরে বিনিয়োগ করতে পারেন যে পাঁচটি খাতে

প্রকাশ :
সংশোধিত :

স্বাধীনচেতা মানুষ বরাবরই ব্যবসায়ের দিকে মনোনিবেশ করেন। স্বকীয়তা রক্ষার পাশাপাশি সমাজে কর্মসংস্থান তৈরিতেও ভূমিকা রাখে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে বাজেট স্বল্পতা কিংবা সঠিক কর্মপরিকল্পনার অভাবে সেই স্বপ্ন অনেক সময় অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়।
লাভ-লোকসানের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই একজন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীকে তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হয়। সঠিক সময়ে সঠিক বিনিয়োগ একজন ব্যক্তির ভবিষ্যতের জন্য সহায় হতে পারে।
২০২৬ সালে এসে আপনি নিতে পারেন কিছু যুগোপযোগী বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত যা আপনার জন্য আয়ের পথ সৃষ্টির পাশাপাশি সমাজে বেকারত্ব হ্রাসেও ভূমিকা রাখতে পারে। তেমনই পাঁচটি বিনিয়োগ ক্ষেত্র নিয়ে জানবো এই লেখায়।

মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ও আইটি ফার্ম
আইটি বা ইনফরমেশন টেকনোলজি বর্তমানে শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে অভিনব পদ্ধতিতে বিভিন্ন পণ্য বা সেবার প্রচার থেকে শুরু করে শিক্ষামূলক কোর্স তৈরি- এসবের জনপ্রিয়তা এখন বিশ্বব্যাপী তুঙ্গে।
ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে অনেকেই বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে এসব সেবা গ্রহণ করে থাকেন। এছাড়া অনেক উদ্যোক্তা নিজস্ব ফ্রিল্যান্সিং ফার্মের মাধ্যমেও নিজের পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন।
অন্যদিকে, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিং, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, সাইবার সিকিউরিটি কিংবা ডেটা সাইন্সের মতো ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগও বর্তমান প্রেক্ষাপটে লাভজনক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

হোমমেড ফুড ডেলিভারি
যে ব্যবসায়ে পুঁজি প্রায় লাগে না বললেই চলে তা হল, হোমমেড ফুড ডেলিভারি ব্যবসা। রান্নার দক্ষতাই এখানে সবচেয়ে বড় মূলধন হিসেবে বিবেচিত হয়।
যারা হরেক রকম খাবার তৈরিতে পারদর্শী তারা চাইলে সহজেই এই ব্যবসায়টি শুরু করতে পারেন।
নিজস্ব ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে সহজেই বাসায় তৈরি সেসব খাবারের কথা ভোজন রসিকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব। ফেসবুকে দেয়া ঠিকানা কিংবা পেইজের ইনবক্সে যোগাযোগের মাধ্যমে ক্রেতারা সহজেই হরেক রকম স্বাদের বাহারি সব খাবার উপভোগ করতে পারেন।
খাবার স্বাদে ও মানে ভালো হলে সহজেই তা ভোক্তাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে যা ব্যবসা প্রসারে ভূমিকা রাখে। সময় কম লাগে বিধায় গৃহিণী কিংবা শিক্ষার্থীরাও এই পেশাটির সাথে জড়িত হতে পারেন।
এছাড়া আলাদা কোনো জায়গার দরকার হয় না বিধায় এই ব্যবসায়ে খরচের পরিমাণও অত্যন্ত সীমিত। তাই যাদের রান্নার হাত পরিপক্ক, তারা সহজেই যুক্ত হতে পারেন এই ব্যবসায়টির সাথে।

হেলথটেক
তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে হেলথটেক বা হেলথ টেকনোলজির চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। ঘরে বসেই এখন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া যায় হেলথটেকের মাধ্যমে। এছাড়া এর মাধ্যমে মেডিসিন কিংবা জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স সেবাও মিলছে দেশের প্রায় সর্বত্র।
চিকিৎসা প্রত্যেক নাগরিকের একটি মৌলিক অধিকার। আর এটিকে সামনে রেখেই সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও বর্তমানে বেশ কিছু স্বাস্থ্যসেবা চালু হয়েছে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে বিদেশী চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করাও সম্ভব হচ্ছে। তাই তথ্য-প্রযুক্তিতে যারা বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য হেলথটেক হতে পারে একটি অন্যতম বিনিয়োগ মাধ্যম।

গেমিং ইন্ডাস্ট্রি
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গেমিং ইন্ডাস্ট্রি দ্রুত বর্ধনশীল খাতগুলোর মধ্যে একটি। বর্তমানে এই ইন্ডাস্ট্রির মার্কেট ভ্যালু প্রায় ২২০ বিলিয়ন ডলার।
তরুণ সমাজে বিভিন্ন গেমের চাহিদাও দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এই ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগ একটি লাভজনক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বিশেষ করে শুটার গেমগুলোতে বিনিয়োগ তরুণ সমাজে বেশ জনপ্রিয়তা পেতে পারে। অন্যদিকে সিম্যুলেশন গেমগুলোও মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে। কারণ, এই ধরনের গেমগুলোতে কোনও কিছু বানাতে বলা হয় যা একজন মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে, দূর্বল প্রচার কিংবা সঠিক অপারেটিং সিস্টেম না থাকলে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে এই বিনিয়োগ।

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বিস্তৃত হওয়ার পর থেকে সারা দেশে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর জনপ্রিয়তা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। চরকি, বঙ্গ, বায়োস্কোপের মতো দেশীয় মাধ্যমগুলোর পাশাপাশি নেটফ্লিক্স কিংবা অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর মতো আন্তর্জাতিক মাধ্যমগুলোর সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে।
এছাড়া প্রতিনিয়ত ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন অবস্থায় এই খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি ভালো মুনাফার পথ খুলে যেতে পারে।
নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করা হয়। এই প্ল্যাটফর্মটিতে বিনিয়োগের জন্য প্রথমেই আপনাকে ঠিক করতে হবে কোন ধরনের কন্টেন্ট আপনার ওটিটিতে থাকবে। যেমন- নাটক, সিনেমা, শর্টফিল্ম, শিক্ষামূলক ভিডিও, পডকাস্ট ইত্যাদি সেখানে থাকতে পারে।
যদি আপনার প্ল্যাটফর্মটি যে কোনও একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয় সেক্ষেত্রে খরচের পরিমাণ কম হবে। তবে একইসাথে আয়ের পরিমাণও কম হতে পারে যেহেতু সেসময় কন্টেন্ট কম থাকার কারণে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যাও সাধারণত কম হয়ে থাকে।
অন্যদিকে, একাধিক বিষয়ের উপর কন্টেন্ট থাকলে একদিকে যেমন সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা বাড়ে, ঠিক তেমনি আয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চালুর ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা আবশ্যক।
কন্টেন্ট সাবস্ক্রিপশনের সংখ্যা যত বাড়বে, প্ল্যাটফর্মটি হতে আয়ের পরিমাণও তত বাড়বে। এছাড়া বিজ্ঞাপন থেকেও আয় করা যায় বিপুল পরিমাণ অর্থ।
এই প্ল্যাটফর্মে সাফল্য পেতে সঠিক পরিকল্পনার পাশাপাশি দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ প্রচারও অপরিহার্য। একই সাথে রুচিশীল কন্টেন্ট তৈরির উপরও জোর দিতে হবে যাতে তা সমাজ কিংবা রাষ্ট্রে কোনো ধরনের নেতিবাচক বার্তা না ছড়ায়। আর এসব বিষয় মাথায় রেখে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে ব্যবসায়িক সফলতা।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.