ওয়াশিংটন পোস্টে নজিরবিহীন ছাঁটাই, চাকরি হারালেন ৩০০ সাংবাদিক

বাদ পড়লেন শশী থারুরের ছেলেও

প্রকাশ :

সংশোধিত :

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এ বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রায় ৮০০ সাংবাদিকের এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩০০ জনেরও বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। ২০১৩ সালে আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস মালিকানা নেওয়ার পর এটিই প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ছাঁটাই।

স্থানীয় সময় গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অনেক কর্মীকে বাড়িতে থাকার নোটিশ পাঠানোর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়।

অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কোম্পানিটি তাদের প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে। এতে বিজনেস সাইড ছাড়াও নিউজরুমের আন্তর্জাতিক (International) এবং ক্রীড়া (Sports) ডেস্ক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক ও সম্পাদককে ছাঁটাই করা হয়েছে।

এই ছাঁটাইয়ের কবলে পড়েছেন ভারতের কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশী থারুরের ছেলে এবং ওয়াশিংটন পোস্ট-এর দীর্ঘদিনের কলামিস্ট ঈশান থারুর। দীর্ঘ ১২ বছর কাজ করার পর চাকরি হারানো ঈশান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি খালি নিউজরুমের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “দিনটা খুব খারাপ।” তিনি জানান, অধিকাংশ আন্তর্জাতিক কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে এবং তিনি এতে অত্যন্ত মর্মাহত।

একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির দিল্লি ব্যুরো প্রধান প্রাণশু বর্মাকেও ছাঁটাই করা হয়েছে, যিনি গত চার বছর ধরে *ওয়াশিংটন পোস্ট*-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এক ধাক্কায় এত বিপুল সংখ্যক কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে ‘আর্থিক লোকসান কমানো’র কথা বলা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে এই পদক্ষেপকে ‘খুব কঠিন’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, পরিবর্তিত প্রযুক্তি ও পাঠকদের আগ্রহের সঙ্গে তাল মেলাতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজনীয় ছিল।

তবে এই গণছাঁটাইয়ের ঘটনায় মালিক জেফ বেজোসের তীব্র সমালোচনা করেছে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট গিল্ড’। কোনো মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে একবারে এত বেশি সংখ্যক সাংবাদিক ছাঁটাইয়ের ঘটনাকে বিরল ও মর্মান্তিক হিসেবে দেখছেন তারা।

সর্বশেষ খবর