ট্রাম্পের ‘সব উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকির মধ্যে তেলের দাম ছাড়াল ১১০ ডলার

প্রকাশ :
সংশোধিত :

সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দামে ওঠানামা দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি না দিলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দেওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজপূর্ণ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুগুলোতে হামলা চালাবে।
সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার একটি খবর প্রকাশের পর দাম কমার আগে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের (£৮৩.৩৮) ওপরে উঠে গিয়েছিল।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই প্রণালী ব্যবহারের চেষ্টাকারী জাহাজগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং একদল আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী সম্ভাব্য ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা করছেন, যা সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে পারে।
বিবিসি নিউজ এই প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করেনি। মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
এশিয়ায় দুপুরের খাবারের সময়ের আগে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে ১০৯.৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন বাজারে লেনদেন হওয়া তেলের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ১১১.৬২ ডলারে অবস্থান করছে।
সংকীর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং বিশ্বব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাধারণত বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মার্কিন বিমান হামলা ইরানকে "প্রস্তর যুগে" ফিরিয়ে নিয়ে যাবে বলে ট্রাম্পের দেওয়া সতর্কবার্তা ও হুমকি তীব্র হওয়ার পর, গত সপ্তাহে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
গত সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও (উইকেন্ডে) উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল স্থাপনাগুলোতে ইরানের হামলা অব্যাহত ছিল।
রবিবার কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টগুলোতে ধারাবাহিক হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরান।
সোমবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে দিয়েছে যে, তাদের দেশে বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা অব্যাহত থাকলে মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর তাদের হামলা আরও জোরদার করা হবে।
রবিবার ওপেক প্লাস (Opec+) মে মাসে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন সামান্য বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
তবে, সংঘাতের কারণে এই জোটের বেশ কয়েকটি মূল সদস্য দেশ উৎপাদন বাড়াতে অক্ষম হওয়ায়, দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বৃদ্ধির এই বিষয়টি মূলত কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের বিরুদ্ধে হুমকি প্রত্যাহার করতে ট্রাম্প ইরানের জন্য এর আগে বেশ কয়েকবার সময়সীমা পিছিয়ে দিয়েছেন, তবে তার কঠোর ভাষার ওই ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি তার দাবিগুলোরই পুনরাবৃত্তি করেছেন।
নিচের অনুচ্ছেদে অত্যন্ত সংবেদনশীল ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে
ট্রাম্প রবিবার লিখেছেন: "মঙ্গলবার ইরানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র দিবস এবং সেতু দিবস হবে, সব মিলিয়ে একাকার। এর মতো আর কিছু হবে না!!! ওই ফা*** প্রণালীটা খুলে দে, উন্মাদ জারজরা, না হলে তোরা নরকে বাস করবি - শুধু দেখতে থাক! সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।"
কয়েক ঘণ্টা পর একই প্ল্যাটফর্মে দেওয়া আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, "মঙ্গলবার, রাত ৮:০০টা ইস্টার্ন টাইম!"
ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেছেন, সোমবার একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর "ভালো সম্ভাবনা" রয়েছে, তবে তিনি এ-ও বলেছেন যে শীঘ্রই কোনো চুক্তি না হলে তিনি "সবকিছু উড়িয়ে দেওয়ার এবং তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার" কথা বিবেচনা করছেন।
ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল আলী আবদোল্লাহি আলিয়াবাদি ট্রাম্পের দেওয়া আগের একটি সময়সীমাকে প্রত্যাখ্যান করে একে "অসহায়, নার্ভাস, ভারসাম্যহীন এবং বোকা" বলে অভিহিত করেছেন এবং যোগ করেছেন যে মার্কিন নেতাদের জন্য "নরকের দরজা খুলে যাবে"।
- বিবিসি'র প্রতিবেদন থেকে অনূদিত।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.