ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড পরিকল্পনা: ইউরোপের সাথে বাণিজ্য ও কৌশলগত উত্তেজনার আশঙ্কা

প্রকাশ :

সংশোধিত :

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের তার প্রচেষ্টাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, এখন তিনি কেবল শান্তি নিয়ে চিন্তা করছেন না। দ্বীপটি নিয়ে বিরোধের কারণে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার হুমকি তৈরি হচ্ছে।

এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য বলপ্রয়োগ করবেন কিনা তা স্পষ্ট করেননি। তবে চুক্তিতে না পৌঁছালে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।

তিনি ন্যাটো সদস্য ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব আদায় করতে তৎপর হয়েছেন। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে তাদের নিজস্ব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই বিরোধ ন্যাটো জোটের স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে, যা পশ্চিমা নিরাপত্তার একটি মূল ভিত্তি।

রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের হুমকি ইউরোপীয় শিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। বিনিয়োগকারীরা ২০২৫ সালের বাণিজ্য যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছেন, যা পূর্বে শুল্ক চুক্তির মাধ্যমে সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল।

ট্রাম্প শনিবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের ওপর বৃহত্তর শুল্ক আরোপ করা হবে, যতক্ষণ না আমেরিকা গ্রিনল্যান্ডের ৫৭,০০০ লোকের বাসস্থান ক্রয় করতে পারে।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন লন্ডনে বলেছেন, “আপনি মানুষের সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারেন, কিন্তু মানুষকে কেনাবেচা করতে পারবেন না।”

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেছেন, তাদের ভূখণ্ড নিজের ভাগ্য নিজের হাতে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা চাপের মুখে নত হবো না এবং সংলাপ, শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অটল থাকব।”

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, “যদি অযৌক্তিক শুল্ক আরোপ করা হয়, আমরা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারব।”

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, ইউরোপীয় সরকারের প্রতিশোধ নেওয়া বোকামি হবে। তিনি দাভোসে সাংবাদিকদের বলেন, “ট্রাম্প নোবেল পাননি বলে এটি করছেন এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখছেন।”

সর্বশেষ খবর