ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতি, তবু হরমুজ ও পারমাণবিক ইস্যুতে অচলাবস্থা

প্রকাশ :
সংশোধিত :

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে এ কথা স্বীকার করলেও ইরানের প্রধান আলোচক জানিয়েছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও মতভেদ রয়ে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে তিনি হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানের সম্ভাব্য ‘চাপ সৃষ্টি’ বা ব্ল্যাকমেইলের ব্যাপারে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
শনিবার পর্যন্ত আলোচনার বর্তমান অবস্থা নিয়ে কোনো পক্ষই স্পষ্ট কিছু জানায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
প্রায় আট সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। ৮ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সেটি বুধবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন করে কোনো চুক্তি না হলে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো নাও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে উভয় পক্ষ।
এই সংঘাত শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; লেবাননেও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে যুদ্ধবিরতির আগে পর্যন্ত ইসরায়েল স্থল অভিযান চালাচ্ছিল।
যুদ্ধের শুরুতেই ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায় এবং শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেন, অগ্রগতি হলেও এখনও বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে। উভয় পক্ষের কিছু ‘রেড লাইন’ রয়েছে, যদিও সেগুলোর সংখ্যা খুব বেশি নয়।
ট্রাম্প আলোচনাকে ইতিবাচক বললেও বিস্তারিত কিছু জানাননি। তার মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়। তবে একই দিনে আবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তারা প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়।
ইরান এই সিদ্ধান্তের জন্য মার্কিন অবরোধকে দায়ী করে, যেটিকে তারা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ হিসেবে দেখছে।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতাবা খামেনি বলেছেন, তাদের নৌবাহিনী শত্রুদের কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে ট্রাম্প ইরানের পদক্ষেপকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রয়োজন হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তারা এ পথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংক্রান্ত খরচ আদায়ের অধিকার রাখে।
শনিবার হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করা অন্তত দুটি জাহাজে গুলির ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি জাহাজে হামলার অভিযোগে ভারত সরকার তেহরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে, যদিও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তারা মন্তব্য করেনি।
গত সপ্তাহে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ২০ বছরের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেয়, কিন্তু ইরান ৩ থেকে ৫ বছরের বেশি রাজি হয়নি।
ট্রাম্প দাবি করেন, খুব শিগগিরই নতুন বৈঠক হতে পারে এবং চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানো গেছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী বৈঠকের আগে সমঝোতার কাঠামো নির্ধারণ জরুরি।
এদিকে হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠক হয়েছে এবং ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে নিয়ে বৈঠকের বাইরে সময় কাটিয়েছেন। উইটকফই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধ নিয়ে জনমত নেতিবাচক হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি দেশটির অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণায় তেলের দাম কমে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। কিন্তু পরদিন আবার বন্ধের ঘোষণায় পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও আশপাশে হাজারো জাহাজ আটকা পড়ে আছে এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক অপেক্ষায় রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.