ইরান সংকটের মধ্যে চীন সফরে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশ :

সংশোধিত :

চলতি সপ্তাহে চীন সফরে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বুধবার (১৩ মে) তিন দিনের এই সফর শুরু করবেন ট্রাম্প এবং শুক্রবার (১৫ মে) তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন। সফরকালে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এ সফরে ইরান সংকটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, চীনের সহায়তায় ইরানকে একটি গ্রহণযোগ্য বহুপক্ষীয় শান্তিচুক্তিতে আনতে চাপ সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে ওয়াশিংটনের সামনে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর ইরানের হরমুজ প্রণালী পরিস্থিতি ও পারমাণবিক ইস্যু তুলনামূলকভাবে গৌণ হয়ে যেতে পারে।

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ইরান পরিস্থিতির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, শুল্কনীতি, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং তাইওয়ান ইস্যুও আলোচনায় থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে মতবিরোধ চলছে।

প্রথমে মার্চ মাসে এই সফরের পরিকল্পনা থাকলেও ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে মে মাসে নির্ধারণ করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার পক্ষে চীনের সক্রিয় ভূমিকা থাকায় বেইজিংয়ের মধ্যস্থতা এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণেই ট্রাম্প ১৩ থেকে ১৫ মে চীন সফর করবেন। মার্কিন কর্মকর্তারা আশা করছেন, ট্রাম্প এই সফরে শি জিনপিংকে ইরান ইস্যুতে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করবেন।

চীন বর্তমানে ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা, বিশেষ করে দেশটির ছোট পরিশোধনাগারগুলোর মাধ্যমে ছাড়কৃত মূল্যে তেল আমদানি করে থাকে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম চীন সফর এবং এতে বেইজিংয়ের টেম্পল অফ হেভেন পরিদর্শনসহ একটি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন থাকবে। ২০১৭ সালের পর এটি কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর।

 

সর্বশেষ খবর