তামাক কর কাঠামো সংস্কারে রাজস্ব বাড়বে ৪৪ হাজার কোটি টাকা, বাঁচবে ৪ লাখ প্রাণ: এনবিআর

প্রকাশ :

সংশোধিত :

তামাকের কর কাঠামোতে সংস্কার আনলে চলতি অর্থবছরের তুলনায় সরকারের প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে। একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে অন্তত চার লাখ অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় ‘অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স-আত্মা’ এর পক্ষ থেকে এই সংস্কার প্রস্তাব ও তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, “কর এবং মূল্য বৃদ্ধি করলে সিগারেটের ব্যবহার কমে। এটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে প্রমাণিত। কাজেই আগামীতেও কর ও মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

প্রাক-বাজেট আলোচনায় আত্মা’র পক্ষ থেকে তামাক পণ্যের মূল্য ও কর বৃদ্ধির বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়- 

নিম্ন ও মধ্যম স্তররের সিগারেট একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের মূল্য ২০০ টাকা বা তার বেশি নির্ধারণ করা। বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের পাশাপাশি প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করা।

বিড়ি ২০ শলাকা ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়ির অভিন্ন দাম ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।

জর্দা ও গুল প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার দাম ৬০ টাকা এবং গুলের দাম ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা। এছাড়া, সকল তামাকপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে ৩৫.৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। এর ফলে সৃষ্ট নানা রোগে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে আদায়কৃত রাজস্বের প্রায় দ্বিগুণ।

এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া সিগারেটের দামের দিক থেকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভুটান, নেপাল ও ভারতের নিচে অবস্থান করছে। তামাকপণ্যের মূল্য কার্যকরভাবে বৃদ্ধি করতে বিশ্বের ৬৯টি দেশ ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতির প্রচলন করেছে বলেও সভায় জানানো হয়।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় আত্মা’র প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক জনকণ্ঠের চিফ রিপোর্টার কাওসার রহমান, ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের হেড অব অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন লিটন, বাংলা ট্রিবিউনের বিজনেস ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম, আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন এবং কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও মিজান চৌধুরী।

সর্বশেষ খবর