ওপেক ও ওপেক প্লাস ছাড়ার ঘোষণা দিল আরব আমিরাত

প্রকাশ :
সংশোধিত :

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন জ্বালানি সংকটের মাঝেই জ্বালানি তেল উত্তোলক ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর বৈশ্বিক সংগঠন 'ওপেক' (OPEC) এবং 'ওপেক প্লাস' (OPEC+) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আকস্মিক ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আগামী ১ মে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ওপেকের নির্ধারিত বৈঠকের ঠিক আগেই দেশটি এই ঘোষণা দিল।
আমিরাতের এই জোট ছাড়ার পেছনে মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ভূরাজনৈতিক ক্ষোভ এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে.
আমিরাতের অভিযোগ, চলমান যুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক হামলা থেকে তাদের সুরক্ষা দিতে প্রতিবেশী আরব দেশগুলো যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেনি। মিত্রদের প্রতি এই অসন্তোষ থেকেই তারা জোট ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই পারস্য উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো ইরানের হুমকি ও জাহাজে হামলার আশঙ্কায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি সচল রাখতে চরম হিমশিম খাচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো—জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখা, বিশ্ব জ্বালানি বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়ানো এবং তেল উৎপাদন কৌশল ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আরব আমিরাতের মতো অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে.
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন হয়। এখানে অচলাবস্থার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এমনিতেই এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
চরম এই সংকটের মুহূর্তে আরব আমিরাতের ওপেক ও ওপেক প্লাস ছাড়ার সিদ্ধান্ত তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর এই জোটকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং জোটের ভেতরে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.