১০ শতাংশ হারে কার্যকর হচ্ছে বেশি ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক

প্রকাশ :
সংশোধিত :

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন বৈশ্বিক শুল্ক ১০ শতাংশ হারে কার্যকর হয়েছে, যদিও তিনি এর চেয়ে বেশি হারে শুল্ক আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট তার আমদানি শুল্কের অনেকগুলো আটকে দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তিনি ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক চালু করবেন। এরপর শনিবার তিনি জানান যে এই হার ১৫ শতাংশ হবে।
তবে সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে এই শুল্ক নিম্ন হারেই (১০ শতাংশ) নির্ধারণ করা হয়েছে এবং হার বাড়ানোর কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।
ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিফলনে হোয়াইট হাউস এই হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করার জন্য কাজ করছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা। তবে কবে নাগাদ এই পরিবর্তন কার্যকর হতে পারে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
বিনিয়োগ ব্যাংক আইএনজি-এর বিশ্লেষক কার্স্টেন ব্রজেস্কি দ্রুত পরিবর্তনশীল শুল্ক এবং ব্যবসার ওপর এর প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, "আমার মনে হয় এটি কেবল বিশৃঙ্খলা এবং ঝামেলাই বাড়াচ্ছে।"
তিনি বিবিসির 'টুডে' প্রোগ্রামকে বলেন, "অনিশ্চয়তার দিক থেকে আমরা গত বছর যে অবস্থায় ছিলাম, সেখানেই ফিরে এসেছি।" তিনি আরও যোগ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঝুঁকি এখন অনেক বেশি।
তিনি বলেন, "সত্যিকারের একটি পূর্ণাঙ্গ শুল্ক যুদ্ধ বা বাণিজ্য যুদ্ধ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি গত বছরের চেয়ে স্পষ্টতই বেশি।"
শুক্রবার ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, এই অস্থায়ী ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কের উদ্দেশ্য হলো "মৌলিক আন্তর্জাতিক লেনদেনের সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা এবং আমেরিকান শ্রমিক, কৃষক ও উৎপাদকদের সুবিধার্থে আমাদের বাণিজ্য সম্পর্কে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কাজ অব্যাহত রাখা।"
প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারার অধীনে এই শুল্ক আরোপ করছে, যা প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়।
প্রেসিডেন্ট যুক্তি দিয়েছেন যে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি—অর্থাৎ রপ্তানির চেয়ে আমদানি যতটুকু বেশি—কমাতে শুল্ক আরোপ প্রয়োজন। কিন্তু গত বছর এই ঘাটতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২.১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে (৮৯০ বিলিয়ন পাউন্ড) দাঁড়িয়েছে।
সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে অন্তত ১৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করেছে।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যে, গত বছর আইইইপিএ ব্যবহার করে ব্যাপকভিত্তিক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর শত শত কোটি ডলার শুল্ক ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বৈশ্বিক পরিবহন ও ডাক পরিষেবা কোম্পানি ফেডেক্স (FedEx) আইইইপিএ-এর অধীনে দেওয়া আমদানি শুল্ক "পুরোপুরি ফেরত" চেয়ে সোমবার একটি মামলা দায়ের করেছে।
এদিকে, ‘উই পে দ্য ট্যারিফস’ (We Pay The Tariffs) নামের একটি প্রচারাভিযান গোষ্ঠী সরকারের কাছে লেখা এক খোলা চিঠিতে জানিয়েছে, তারা ৯০০-এর বেশি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং "বেআইনি আইইইপিএ শুল্কের সম্পূর্ণ, দ্রুত এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দাবি করছে।"
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই অর্থ ফেরত দেবে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন যে এই বিষয়টি নিয়ে "আগামী পাঁচ বছর ধরে" আদালতে লড়াই চলবে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্রেট কাভানাউ রায়ে বলেছেন যে, এই শুল্ক ফেরতের প্রক্রিয়াটি সম্ভবত একটি "বিশৃঙ্খলা" তৈরি করবে।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প এটিকে "হাস্যকর, বাজেভাবে লেখা এবং চরমমাত্রায় আমেরিকা-বিরোধী" বলে আখ্যায়িত করেছেন।
'সুখবর, কিন্তু এটা কি এভাবেই থাকবে?'
ফ্রেজার স্মিটন যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফ্যান্সি ড্রেস কোম্পানি 'মর্ফ কস্টিউমস'-এর প্রধান নির্বাহী। তারা চীনে পোশাক তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে।
এই ব্যবসাকে চীনা শুল্ক হার পরিশোধ করতে হয়। তিনি বলেন, শুল্ক নীতিতে পরিবর্তনের আশঙ্কায় টাকা আলাদা করে রাখতে হওয়ায় তিনি তার ইচ্ছামতো উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারেননি।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, "আমরা যে ২০ শতাংশ এর বদলে ১০ শতাংশ এ আছি, তা আগের চেয়ে ভালো, কিন্তু এটা কি এভাবেই থাকবে?"
অন্যদের মতো তিনিও জানান যে তার প্রতিষ্ঠানও বেআইনি আইইইপিএ শুল্ক ফেরতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং "আমরা কী দিয়েছি এবং কখন দিয়েছি" তার হিসাব রাখছে।
সূত্র: বিবিসি।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.