মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অনিশ্চয়তায় ডলারের দরপতন: ১৮ মার্কিন কোম্পানিকে ইরানের হুমকি

প্রকাশ :
সংশোধিত :

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ প্রত্যাশার চেয়ে কম সময় স্থায়ী হতে পারে—এমন আশাবাদে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের কিছুটা দরপতন হয়েছে।
তবে সংঘাতের মেয়াদ ও ব্যাপ্তি নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার কারণে ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ হিসেবে ডলারের চাহিদা এখনও তুঙ্গে। ফলে ২০২৪ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের পর থেকে এটি সেরা একটি ব্যবসায়িক প্রান্তিক বা কোয়ার্টারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার ডলার সূচক ০.৫৯ শতাংশ কমে ৯৯.৯৬-এ দাঁড়ালেও মাসিক হিসেবে এটি ২.৩৫ শতাংশ লাভের পথে রয়েছে, যা গত জুলাইয়ের পর থেকে সর্বোচ্চ।
মূলত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে এবং জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় মার্কিন ডলার বা ‘গ্রিনব্যাক’ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলেও তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শেষ করতে ইচ্ছুক। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক দিন হবে ‘চূড়ান্ত’ এবং কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে সংঘাত আরও তীব্র হবে।
এদিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) এক নতুন ঘোষণায় জানিয়েছে, ইরানে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে বুধবার থেকে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তারা মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যাপল, ইন্টেল, আইবিএম, টেসলা এবং বোয়িংসহ ১৮টি বড় প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।
এ অবস্থায় স্কোশিয়াব্যাংকের কৌশলবিদ শন অসবর্ন মনে করছেন, বাজার এখনও অত্যন্ত উদ্বিগ্ন এবং ডলার বর্তমানে ‘ওভারভ্যালুড’ বা অতিরিক্ত মূল্যায়িত অবস্থায় থাকলেও যুদ্ধের ঝুঁকি যত দিন থাকবে, ডলারের এই আধিপত্য বজায় থাকতে পারে।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক এই অস্থিরতা নিরসনে চীন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বেইজিংয়ে এক বৈঠকে মিলিত হয়ে অবিলম্বে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনরায় নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
সূত্র: সিএনবিসি।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.