দাম কমাতে এলপিজির কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সরকারের

প্রকাশ :

সংশোধিত :

স্থানীয় বাজারে দাম কমানোর লক্ষ্যে সরকার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে স্থানীয় সরবরাহ ও ব্যবসায়িক পর্যায় থেকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আহরণ সরিয়ে তা আমদানি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, স্থানীয় সরবরাহ ও ব্যবসায়িক পর্যায়ে এলপিজির ওপর বিদ্যমান ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ২.০ শতাংশ অগ্রিম কর মওকুফ করা হবে। এর পরিবর্তে আমদানি পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হবে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রান্নার কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এলপিজির সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ায় পবিত্র রমজান মাসের আগেই সরকার দ্রুত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারি মাসে এলপিজি আমদানি ২১ হাজার টন কমেছে।

এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এই কর পুনর্বিন্যাসের ফলে সামগ্রিক করের বোঝা প্রায় ২০ শতাংশ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের জন্য দাম কমাতে সক্ষম হবেন।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, "এনবিআর আগামী সপ্তাহে এ সংক্রান্ত একটি সংবিধিবদ্ধ প্রজ্ঞাপন (এসআরও) জারি করবে এবং সংশোধিত কর কাঠামো ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে"।

ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং ওমেরা এলপিজির পরিচালক আজম জে চৌধুরী বলেন, এলপিজির সংকট বা মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কর প্রধান কারণ নয়; বরং তিনি এর জন্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নতাকে দায়ী করেন।

তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, সংশোধিত কর কাঠামোর ফলে দাম সামান্য কমবে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ এলপিজি বিনিয়োগকারী জনাব চৌধুরী আরও বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে এক ধাপে কর পরিশোধের ব্যবস্থা করায় ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়া সহজ হবে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশ্বিক বাজারে এলপিজির দামের তীব্র বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাজারের অস্থিরতা এলপিজি সংগ্রহকে জটিল করে তুলেছে। এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন নির্ধারণ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ায় কর আদায়ের এই পর্যায় পরিবর্তন করা হয়েছে।

এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ভোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে এলপিজির ওপর কর কমানোর জন্য এনবিআরকে অনুরোধ করেছিল। বাংলাদেশ তার এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে, যার সিংহভাগই গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়।

বর্তমানে এনবিআর এলপিজি খাত থেকে বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। দেশে এলপিজির মাসিক চাহিদা ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টনের মধ্যে ওঠানামা করে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন হ্রাস এবং বাসাবাড়িতে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় এই চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে।

পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহে অসামঞ্জস্যতার কারণে শিল্পখাতেও এর ব্যবহার বেড়েছে। মূলত কাতার, কুয়েত এবং ইরান থেকে এলপিজি আমদানি করা হয়।

দেশের মোট এলপিজি ব্যবহারের প্রায় ৮১ শতাংশ গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। বাকিটা শিল্প, বাণিজ্যিক এবং অটো গ্যাসসহ পরিবহন খাতে ব্যবহৃত হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা এবং স্থানীয় চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে। বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১,২৫৩ টাকা। তবে খুচরা বিক্রেতারা বাজারে সিলিন্ডার প্রতি অতিরিক্ত ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে।

সারা দেশে ১ কোটিরও বেশি ভোক্তা এলপিজির ওপর নির্ভরশীল।

doulotakter11@gmail.com

সর্বশেষ খবর