চীন-রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে মার্কিন শর্ত, সীমিত হলো বাংলাদেশের সুযোগ

প্রকাশ :
সংশোধিত :

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত রেসিপ্রোকাল ট্রেড-টারিফ চুক্তিতে এমন কিছু শর্ত যুক্ত আছে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যনীতি ও পররাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে সীমাবদ্ধ করে।
এই চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশকে “নন-মার্কেট ইকোনমি” হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে—যার মধ্যে চীন, রাশিয়া, ভিয়েতনামসহ মোট ১২টি দেশ রয়েছে—সেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ কোনো মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বা প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড ডিল করতে পারবে না। বাংলাদেশ যদি এমন কোনো চুক্তিতে যায় এবং আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি মেটানো না যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে এই চুক্তি বাতিল করে ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল জারি করা নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী আগের ট্যারিফ পুনর্বহাল করতে পারবে।
এদিকে বাংলাদেশ আগামী নভেম্বর মাসে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার আগে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি ও প্রেফারেনশিয়াল বাণিজ্য চুক্তি করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ–চীন মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্তও হয়েছে। পাশাপাশি সাবেক সোভিয়েতভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গেও প্রেফারেনশিয়াল বাণিজ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। কিন্তু নতুন এই যুক্তরাষ্ট্র-চুক্তি এসব উদ্যোগকে জটিল করে তুলছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ -এর একজন জ্যেষ্ঠ গবেষকের মতে, এই চুক্তিতে এত বেশি শর্ত আরোপ করা হয়েছে যে তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক স্বার্থকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত বাংলাদেশকে “হাত-পা বেঁধে” ফেলেছে। তাই নতুন সরকারকে এই চুক্তি পুনরায় আলোচনা করতে হতে পারে।
চুক্তিতে কৃষি খাত নিয়েও কড়াকড়ি আছে। বাংলাদেশ যদি তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে কৃষি সংক্রান্ত চুক্তি করতে চায়, তাহলে সেটি যেন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যের রপ্তানিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে—এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়পত্র নিতে হবে। এছাড়া, স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি মান অবশ্যই বিজ্ঞানভিত্তিক হতে হবে এবং এমন কোনো মান আরোপ করা যাবে না যা যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক বা গোপন বাণিজ্য বাধা হিসেবে কাজ করে।
শ্রম ইস্যুতেও শর্ত রয়েছে—জোরপূর্বক শ্রম, বন্দিশ্রম বা শিশু শ্রম ব্যবহার করে উৎপাদিত কোনো পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ লাভ-ক্ষতির বিশ্লেষণ এখনো হয়নি। তাঁর মতে, চুক্তির মূল সুবিধা হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১৯ শতাংশ রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ সুবিধা এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি পণ্যে শূন্য ট্যারিফ। এর বিনিময়ে বাংলাদেশ পাচ্ছে মূলত দামের নিশ্চয়তা, কিন্তু এর ফলে দেশের নীতিনির্ধারণে কিছু স্বাধীনতা হারাতে হচ্ছে।
তবে তিনি এটাও বলেন, যদি দেখা যায় এই চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী, তাহলে বাংলাদেশ চাইলে চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ সবসময়ই আছে।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.