বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে, কমেছে তেলের মূল্য

প্রকাশ :

সংশোধিত :

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকার ইঙ্গিত দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। একই সময়ে মঙ্গলবার (২ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার প্রায় ২ শতাংশ কমার পর মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৫২২.২৮ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার বাজারেও দাম ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৫৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ফরেক্স ডট কমের বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, স্বর্ণের বাজার মূলত তেলের দাম, বন্ডের ফলন এবং মার্কিন ডলারের ওঠানামার ওপর নির্ভরশীল, যা আবার মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

তিনি আরও বলেন, স্বর্ণে নতুন করে ইতিবাচক গতি দেখতে হলে বাজারে স্পষ্ট ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা প্রয়োজন, যা ক্রেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে। তবে বর্তমানে বাজারে সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই এবং বিনিয়োগকারীরা নতুন সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এদিকে ইরানের মেহর নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি সম্ভাব্য চুক্তির প্রস্তাব ইরান বিবেচনা করছে। এর আগে ট্রাম্পও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

অন্যদিকে আগের দিনের বড় উত্থানের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং উচ্চ সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকতে পারে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে, যা স্বর্ণের বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।

সাধারণত স্বর্ণকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হলেও উচ্চ সুদের হারে সুদবিহীন এই সম্পদের আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।

এদিকে এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক প্রকাশের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে রয়েছে চাকরির শূন্যপদের তথ্য, বুধবারের এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং শুক্রবারের সরকারি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন। এসব তথ্য ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কমার্জব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষে স্বর্ণের দাম প্রতি ট্রয় আউন্স ৪,৮০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। যদিও পূর্বে তাদের অনুমান ছিল ৫,০০০ ডলার। তবে ২০২৭ সালের শেষে স্বর্ণের দাম ৫,২০০ ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ব্যাংকটির মতে, দীর্ঘমেয়াদি মৌলিক কারণগুলো এখনো স্বর্ণের বাজারকে সমর্থন দিচ্ছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ২.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৬.৩৭ ডলারে, প্লাটিনামের দাম ২.২ শতাংশ বেড়ে ১,৯৬৬.৬৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৭ শতাংশ বেড়ে ১,৩৮৫.৩৭ ডলারে পৌঁছেছে।

সর্বশেষ খবর