রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা ফেরানোর দাবি পোশাক রপ্তানিকারকদের

প্রকাশ :

সংশোধিত :

বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানিকারকরা সরকারকে ২০২৪ সালের আগের হারে নগদ প্রণোদনা পুনর্বহাল করতে এবং যেসব প্রক্রিয়াগত শর্ত তাদের মতে খরচ বাড়াচ্ছে এবং ব্যবসা করার স্বাচ্ছন্দ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে সেসব বাতিল করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে শিল্পনেতারা স্থানীয় সুতা প্রণোদনাকে ৩ শতাংশে এবং সাধারণ রপ্তানি প্রণোদনাকে ১ শতাংশে পুনঃস্থাপনের দাবি জানান এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) অনুমোদিত বিধান অনুসারে এগুলো ২০২৯ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব দেন।

ডব্লিউটিও-র নিয়ম অনুসারে, কোনো দেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর আরও তিন বছর এই ধরনের ভর্তুকি দিতে পারে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় সুতা প্রণোদনা বর্তমান ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে বাড়ালে দেশীয় মিল মালিকরা লাভবান হবেন এবং স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়বে, যা নতুনভাবে আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক শুল্কের নিয়ম মেনে চলার জন্য জরুরি।

তারা আরও ১ শতাংশ হারে সব রপ্তানিকারকের জন্য প্রণোদনা পুনর্বহালের দাবি জানান, যা বর্তমানে শূণ্য দশমিক ৩ শতাংশে নামানো হয়েছে।

রপ্তানিকারকরা অভিযোগ করেন, প্রণোদনা পেতে যে জটিল কাগজপত্র পূরণ করতে হয়, তা এত ব্যয়বহুল যে প্রায় প্রণোদনার সুফলই নষ্ট হয়ে যায়।

বৈঠকের এক সূত্রের বরাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব রহিমা বেগম বলেন, “আমরা শিল্প খাতের চ্যালেঞ্জগুলো জানতে চাই, সামগ্রিক পরিস্থিতি বুঝতে চাই এবং এলডিসি থেকে মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে চাই। আমরা এমন সমাধান খুঁজতে চাই যা রপ্তানি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াবে।”

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-কে বলেন, ডব্লিউটিও-র নিয়ম অনুযায়ী প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে উত্তরণের পর আরও তিন বছর নগদ প্রণোদনা দেওয়া যায়।

তিনি বলেন, “নগদ প্রণোদনা রপ্তানি আয়ের বাস্তবায়ন ধাপে প্রদান করা উচিত; অন্যথায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত বিলম্ব হয়, যা ব্যবসা করার সহজতাকে ব্যাহত করে।”

এ সময় তিনি নিরীক্ষা সংস্থার সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারেরও সমালোচনা করেন। এ ছাড়া তিনি প্রণোদনার আবেদনপত্র থেকে ‘কম্পোজিট’ শব্দটি বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এটি নিরীক্ষার সময় বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং যেসব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কম্পোজিট সুবিধা নেই, তাদের অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম রোজালিন বলেন, শিল্প খাত একই সঙ্গে বহিরাগত ও দেশীয় চাপের মুখে রয়েছে।

বাংলাদেশ ফেডারেশন অব চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর সিনিয়র অতিরিক্ত মহাসচিব শাহ মো. আবদুল খালেক নগদ প্রণোদনা ধীরে ধীরে বাদ দেওয়া হবে বলে এলডিসি উত্তরণের আগেই বিকল্প প্রণোদনা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল, শ্রমিকের বেতন, কারখানার ভাড়া বাবদ ভর্তুকি বা কর মওকুফ দেওয়া এবং সরকার-টু-সরকার চুক্তির মাধ্যমে শূন্য শুল্কে বাজার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন।

বিজিএমইএ-এর সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীও ৩ শতাংশ এবং ১ শতাংশ হারে প্রণোদনা পুনর্বহালের আহ্বান জানান এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সমপরিমাণ সহায়তা প্রদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, সরকার সম্প্রতি ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের পরিকল্পিত এলডিসি উত্তরণের প্রভাব কমাতে চার ধাপে নগদ প্রণোদনা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, ডব্লিউটিও-র নিয়ম অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর এই ধরনের ভর্তুকি দেওয়া যাবে না।

এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সরকার রপ্তানি ভর্তুকির কাঠামো পুনর্গঠন শুরু করে  ৪৩টি পণ্যের জন্য ১ থেকে ১৫ শতাংশ হারের প্রণোদনা কমিয়ে শূণ্য দশমিক ৩ থেকে ১০ শতাংশে নামানো হয়।

ফলে এই দ্বিতীয় ধাপের হ্রাসের সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে। তারা এখন ২০২৪ সালের জানুয়ারির আগের হারে সম্পূর্ণ পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন।

newsmanjasi@gmail.com

সর্বশেষ খবর