নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ :

সংশোধিত :

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সাশ্রয়ী মূল্যে সেগুলোর সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

রবিবার সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য সারোয়ার জামাল নিজামের একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সরকার 'অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫৬' সংশোধন ও হালনাগাদ করে এটিকে আরও কার্যকর এবং যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিদ্যমান আইনের আওতায় সরকার ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তা সমন্বয় করে। চলতি বছর এ পর্যন্ত তিনবার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত এক বছরে বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেকাংশে স্থিতিশীল ছিল। তবে বছরের মাঝামাঝি সময়ে এবং ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে পেঁয়াজের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে দুই ধাপে আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয় এবং দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে।

দীর্ঘমেয়াদি বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে, সরকার ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর বাজার নিয়ন্ত্রণ মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য একটি উপযুক্ত কাঠামো তৈরি করার দায়িত্ব বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (বিআইডিএস) দিয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি বছর চিনি, ভোজ্যতেল এবং খেজুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোর ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়েছে, যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ঢাকায় প্রতিদিনের পরিদর্শনের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রমজান এবং অন্যান্য উৎসবের সময় এই প্রচেষ্টাগুলো আরও জোরদার করা হয়।

দাম পর্যালোচনা এবং সরবরাহ সমস্যা সমাধানের জন্য উৎপাদক, আমদানিকারক, পাইকারি ব্যবসায়ী এবং খুচরা বিক্রেতাদের সাথে নিয়মিত বৈঠকও করা হচ্ছে। মন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন।

এছাড়া, স্থিতিশীল সরবরাহ ও দাম নিশ্চিত করতে এলপিজি আমদানিকারক এবং পরিবেশকদের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এড়াতে আমদানিকারক ও উৎপাদকদের ব্যাংকিং সংক্রান্ত সমস্যাগুলোও সমাধান করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, উৎপাদক, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তাদের মধ্যে দামের পার্থক্য কমিয়ে আনতে জেলা পর্যায়ে বিশেষ টাস্কফোর্স গুদাম, হিমাগার, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পাইকারি বাজারগুলো তদারকি করছে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ী নেতা এবং চেম্বার প্রতিনিধিদের সাথে অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ সরকারকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও কার্যকরভাবে পর্যালোচনা এবং নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করছে।

mirmostafiz@yahoo.com

সর্বশেষ খবর