মোবাইল আমদানিতে শুল্ক কমে ১০ শতাংশ, ৩ মাস বন্ধ হবে না কোনো ফোন

প্রকাশ :

সংশোধিত :

​মোবাইল ফোনের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে বড় ধরনের ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি (শুল্ক) ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ গ্রাহক ও প্রবাসীদের সুবিধার্থে আগামী তিন মাস কোনো মোবাইল ফোন বন্ধ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

​আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কম। এছাড়া দেশীয় মোবাইল ফোন উৎপাদন শিল্পকে উৎসাহিত করতে তাদের ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

​সরকার মনে করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে মোবাইল ফোনের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে এবং বৈধ পথে আমদানি উৎসাহিত হবে। যদিও এতে চলতি অর্থবছরে সরকারের প্রায় ৩৫ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তবুও বাস্তবতা বিবেচনায় এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে বর্তমানে তাদের হাতে থাকা এবং বিটিআরসির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমদানিকৃত ফোনগুলোকে কোনো অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই ‘স্টক-লট’ হিসেবে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব ফোন এনইআইআর সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হবে। এজন্য ব্যবসায়ীদের শুধু বিটিআরসিকে তাদের কাছে থাকা হ্যান্ডসেটের আইএমইআই (IMEI) নম্বরের তালিকা জমা দিতে হবে।

জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে আগামী তিন মাস এনইআইআর-এর মাধ্যমে কোনো মোবাইল ফোন ব্লক বা বন্ধ করা হবে না। বিশেষ সুবিধা পাবেন প্রবাসীরাও। মানবিক দিক বিবেচনায় বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর প্রবাসীদের ব্যবহৃত ফোন তিন মাস পর্যন্ত সচল থাকবে।​ কেউ তিন মাসের কম সময় দেশে অবস্থান করলে তার ফোন নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই।​ তিন মাসের বেশি অবস্থান করলে তখন রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

আজ বিকেলে বিটিআরসি ভবনে ব্যবসায়ীদের একাংশের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী ও ন্যক্কারজনক’ বলে অভিহিত করেছেন জনসংযোগ কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন। তিনি জানান, যারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

​একই সঙ্গে সরকার জানিয়েছে, বৈধ পথে আমদানি সহজ করার পাশাপাশি অবৈধ ফোনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। স্থলবন্দর, বিমানবন্দর ও কাস্টমস হাউজের পাশাপাশি প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে অভিযান চালিয়ে অবৈধ সেট জব্দ করা হবে।

সর্বশেষ খবর