জ্বালানি খাতে মাসে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার: মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র

প্রকাশ :

সংশোধিত :

আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীলতার কারণে সরকারকে জ্বালানি খাতে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী এই তথ্য জানান।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতা প্রসঙ্গে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকায় বিক্রি করা হলেও এর প্রকৃত ক্রয়মূল্য প্রায় ১৫৫ টাকা হওয়া উচিত। এই বিপুল পার্থক্যের কারণেই সরকারকে প্রতি মাসে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকির বোঝা টানতে হচ্ছে। চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখনই সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।

জনমনে তৈরি হওয়া আতঙ্ক দূর করার আহ্বান জানিয়ে মুখপাত্র বলেন, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই, তাই অযথা মজুত করার কোনো প্রয়োজন নেই। দেশে বর্তমানে ডিজেলের মজুদ রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৪৩ টন, অকটেন ৯ হাজার ৫৬৯ টন এবং পেট্রোল ১ হাজার ৬৮২ টন। 

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, নিয়মিত আমদানি ও সরবরাহ অব্যাহত থাকায় অন্তত আগামী দুই মাস দেশে অকটেন ও পেট্রোলের কোনো সংকট হবে না।

কৃত্রিম সংকট রুখতে দেশব্যাপী জোরালো অভিযান পরিচালনা করছে প্রশাসন। গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার) সারা দেশে ৩৬১টি অভিযানে ১৯২টি মামলা দায়ের, ৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা জরিমানা আদায় এবং দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ পর্যন্ত দেশব্যাপী মোট ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যেখানে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকার বেশি অর্থদণ্ড আদায় এবং ৩৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে- ৩ লাখ ৫২ হাজার ২৪৭ লিটার ডিজেল, ৩ হাজার ৬২১ লিটার অকটেন এবং ৮০ হাজার ৩৭৪ লিটার পেট্রোলসহ মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। 

অবৈধ মজুতের পেছনে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মামলার তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর