চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ সংখ্যা কমাতে চায় কর্তৃপক্ষ, বিরোধিতায় শিপিং এজেন্টরা

ফাইল ছবি।
ফাইল ছবি।

প্রকাশ :

সংশোধিত :

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শিপিং এজেন্টদের মধ্যে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিরোধের ফলে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

সূত্র জানায়, বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০ জুলাই এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বর্তমানে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা থেকে ১৩ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে। তবে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএএ) এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে, যেটিকে তারা বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে।

বর্তমানে ১১৮টি জাহাজ বন্দর চ্যানেলে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে ১৫টি জাহাজ কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে বহির্নোঙ্গরে জাহাজের দীর্ঘ সারি এবং অপেক্ষাজনিত ডিমারেজ কমানো যায়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দরে বর্তমানে ১৬টি জাহাজ নোঙর করতে পারে, যার মধ্যে ১০টি নোঙর স্থান কনটেইনার জাহাজের জন্য নির্ধারিত।

জাহাজ চলাচল বেড়ে গেলে বহির্নোঙ্গরে জাহাজের সারি দীর্ঘ হয়ে যায় এবং তাদের অপেক্ষার সময় বাড়ে। এছাড়া, নোঙরে থাকা জাহাজে সময়মতো মালামাল লোড-আনলোড সম্পন্ন না হলে টার্নঅ্যারাউন্ড টাইমও বেড়ে যায়।

ফলে আন্তর্জাতিক মহলে বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ কারণে কর্তৃপক্ষ জাহাজের সংখ্যা সীমিত করতে চায়।

২০ জুলাইয়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৯ জুলাই বিএসএএ'র চেয়ারম্যানকে একটি চিঠিতে ১৫টি গিয়ার্ড ও গিয়ারলেস জাহাজের নাম পাঠাতে বলা হয়েছে, যেগুলোকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক পরিচালক এনামুল করিম বৈঠকে বলেন, ২০২৫ সালের শুরুতে বন্দরে ৯৬টি জাহাজ চলাচল করত। তখন বহির্নোঙ্গরে গড়ে ৭–৮টি জাহাজ অপেক্ষায় থাকত এবং প্রতিটির জন্য অপেক্ষার সময় হতো ১–২ দিন।

পরে বিভিন্ন সময় অনুমোদনের মাধ্যমে জাহাজের সংখ্যা ১১৮-তে উন্নীত হয়।

জাহাজের সংখ্যা কমানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে করিম বলেন, "জাহাজের সংখ্যা বাড়ার ফলে বন্দরে জাহাজ জট, বহির্নোঙ্গরে অপেক্ষার সময় এবং জাহাজের সারি বেড়েছে।" 

তিনি সুপারিশ করেন, বন্দরের স্বাভাবিক রপ্তানি-আমদানি কার্যক্রম নিশ্চিত করতে জাহাজের সংখ্যা ৯৬ থেকে ১০০ এর মধ্যে রাখা উচিত।

তবে বিএসএএ'র চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, জট নিরসনে জাহাজের সংখ্যা কমানো মানে 'মাথা কেটে মাথাব্যথা সারানোর চেষ্টা'।

তিনি বলেন, প্রথমে মাথাব্যথার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে হবে, তারপর চিকিৎসা নিতে হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বন্দরে জট হচ্ছে ভাবমূর্তির বিষয়। কিন্তু বাস্তবে এই জট–এর কারণে বন্দর কার্যত অচল হয়ে যাচ্ছে না।

আরিফ বলেন, সাম্প্রতিক জট–এর প্রধান কারণ হচ্ছে ঈদ উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটি, কাস্টমস কর্মকর্তাদের ধর্মঘট, কাস্টমস ডেটার জন্য স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের ( ASYCUDA ) গোলযোগ এবং যানবাহন চালক ও মালিকদের ধর্মঘট।

তিনি বলেন, "এই ঘটনাগুলোর একটি চেইন প্রভাব পড়েছে বন্দরের ওপর, যার ফলে জাহাজের সারি ও টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম বেড়েছে। আগে যেখানে টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম ছিল ২ দিন, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দিনে।" 

এছাড়া, তিনি কোনো জাহাজের নাম বাদ দেওয়ার জন্য পাঠাবেন না বলেও জানান। তিনি আরও বলেন, ক্রেন বিকল হওয়া, ট্রেইলারের অভাব, ইয়ার্ডে জায়গা সংকট, ওভারফ্লো ইয়ার্ডে যন্ত্রপাতির ত্রুটিসহ বিভিন্ন অপারেশনাল সমস্যা সময়মতো কাজ শেষ করতে বাধা দিচ্ছে।

এসব কারণে জাহাজের উৎপাদনশীলতা ও টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসব সমস্যা সমাধানে বন্দর কর্তৃপক্ষের মনোযোগ দেওয়া উচিত বলেও জানান তিনি।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে ২৪টি কনটেইনার জাহাজ অপেক্ষায় ছিল এবং ১২টি জাহাজে মাল লোড-আনলোড চলছিল।

বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে মোট ৪১ হাজার ১২৮টি টিইইউ (২০ ফুটের সমপরিমাণ) কনটেইনার মজুত ছিল, যেখানে ধারণক্ষমতা ৫৩ হাজার ৫১৮ টিইইউ।

syful-islam@outlook.com 

সর্বশেষ খবর