বাংলাদেশ–জাপান ইপিএ চুক্তি স্বাক্ষর, ৭,৩৭৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা


দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বাংলাদেশ ও জাপান আজ টোকিওতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো দেশের সঙ্গে প্রথমবারের মতো স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, উভয় দেশের রাষ্ট্রদূত এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। চুক্তি সাত দফা আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এই চুক্তি কেবল বাণিজ্যিক দলিল নয়, এটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন দুই দেশের সমৃদ্ধির নতুন অধ্যায় শুরু করবে।
চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশী পণ্য ও সেবার মধ্যে প্রায় ৭,৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা থাকায় কাঁচামালসহ সরাসরি রপ্তানি সম্ভব হবে। বিনিময়ে বাংলাদেশ জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য পর্যায়ক্রমে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকার সুবিধা দিচ্ছে।
এছাড়া, জাপানের ১৬টি সেবা খাতে বাংলাদেশের দক্ষ পেশাজীবীরা কাজ করতে পারবে, যার মধ্যে আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং ও নার্সিং অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ জাপানের জন্য ১২টি বিভাগের আওতায় ৯৮টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে।
চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে বাণিজ্য বৃদ্ধি, উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি ও লজিস্টিকস খাতে জাপানি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় পণ্যের মান উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) বিকাশ ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে এটি বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.