
প্রকাশ :
সংশোধিত :

নৌ-উপদেষ্টার আশ্বাসে চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান আন্দোলন দুদিনের জন্য স্থগিত হলেও আন্দোলনকারী নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ১৫ শ্রমিক নেতার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা এক চিঠিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এ অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে ১৫ জন নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকন। আন্দোলনের সময় তাদের প্রেষণে যথাক্রমে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছিল।
তালিকায় থাকা অন্য ১৩ জন হলেন—মো. ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, মো. হুমায়ুন কবীর (এসএস পেইন্টার), মো. শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, মো. শামসু মিয়া, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী।
মন্ত্রণালয়, দুদক এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “উক্ত কর্মচারীগণ রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত। এ সকল বিপথগামী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে যান নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো আপস করা হবে না। ১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি করা গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও জানান, বন্দরের অচলাবস্থার কারণে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণে একটি ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন’ পরিচালনা করা হবে। আন্দোলনকারীরা এরপরও কাজে বাধা দিলে সরকার ‘হার্ডলাইনে’ যেতে বাধ্য হবে। এছাড়া এই আন্দোলনের পেছনে অন্য কোনো ইন্ধন আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে দেওয়ার প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতি পালন করছিলেন শ্রমিকরা। উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর শুক্র ও শনিবারের জন্য আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.