১৪ দিনের ব্যবধানে আবার বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম

প্রকাশ :
সংশোধিত :

উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম ১৪ দিনের ব্যবধানে আবারও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২২৭ টাকা ৮ পয়সা করা হয়েছে, অর্থাৎ লিটারে বেড়েছে ২৪ টাকা ৭৯ পয়সা।
আন্তর্জাতিক রুটেও দাম বাড়ানো হয়েছে। সেখানে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ১ দশমিক ৩২১৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৪৮০৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় লিটারপ্রতি ১৯ টাকার বেশি বৃদ্ধি।
বিইআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নতুন এই মূল্য মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। সংস্থাটি বলছে, ২৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারদর ও গড় প্ল্যাটস রেটের ভিত্তিতে এপ্রিল মাসের জন্য এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মার্চ মাসেই জেট ফুয়েলের দাম দুই দফা সমন্বয় করা হয়।
২৪ মার্চ অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা করা হয়েছিল, যা ছিল ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা বৃদ্ধি। একই দিনে আন্তর্জাতিক রুটে দাম দশমিক ৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে ৮ মার্চ অভ্যন্তরীণ রুটে দাম ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা এবং আন্তর্জাতিক রুটে শূণ্য দশমিক ৬২ ডলার থেকে শূণ্য দশমিক ৭৩৮৪ ডলার করা হয়েছিল।
মার্চের শুরুতে নির্ধারিত দামের তুলনায় ওই মাসে অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়ে যায়, আন্তর্জাতিক রুটেও বৃদ্ধির হার প্রায় একই ছিল। তবে এপ্রিলের এই সর্বশেষ সমন্বয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই দাম প্রায় ১২ শতাংশ করে বেড়েছে।
এর আগে জানুয়ারিতে অবশ্য জেট ফুয়েলের দাম কমানো হয়েছিল। ৭ জানুয়ারি অভ্যন্তরীণ রুটে দাম ১০৪ টাকা ৬১ পয়সা থেকে কমিয়ে ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা এবং আন্তর্জাতিক রুটে ৬৮ সেন্ট থেকে ৬২ সেন্টে নামানো হয়। তখন বিইআরসি জানিয়েছিল, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন এবং এশিয়ার বাজারে অস্থিরতা—এসব কারণে মার্চে জেট ফুয়েলের দামে বড় উল্লম্ফন ঘটে।
এদিকে, ওই মূল্যবৃদ্ধির পর এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি) সিদ্ধান্তটিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে সমালোচনা করেছিল।
নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিচালনার খরচ আরও বেড়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা রয়েছে। মার্চের শেষ দিকে বড় বৃদ্ধি হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই আবার দাম বাড়ানো হলো।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.