পুঁজিবাজারে আনতে ১০ বড় কোম্পানির দিকে সরকারের নজর

তালিকায় ইউনিলিভার-নেসলে

প্রকাশ :

সংশোধিত :

বড় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে দেশি লাভজনক রাষ্ট্রয়াত্ত্ব ও বহুজাতিকসহ ১০ কোম্পানির প্রতি নজর দিয়েছে সরকার।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এমন ১০টি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। 

দেশি লাভজনক কয়েকটি রাষ্ট্রয়াত্ত্ব কোম্পানি সরাসরি তালিকাভুক্ত (ডাইরেক্ট লিস্টিং) হবে। আর বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে বোর্ড সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।

বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এর চেয়ারম্যান আবু আহমেদ এসব কথা জানান।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে-কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, সিনোভিয়া বাংলাদেশ লিমিটেড, নোভার্টিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড এবং নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি।

বৈঠকে শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, “এখন শেয়ারবাজার মোটামুটি আইনের মধ্যে এসেছে। এখন আমাদের শেয়ারবাজারের গভীরতা বাড়ানো ও আস্থা ফেরানো দরকার। আস্থা ফেরানোর জন্য আমরা বলেছি সরকারি ভালো ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার ‘অফলোড’ করতে।”

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিষেয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে? জবাবে তিনি বলেন, “ওখানে আমাদেরও (সরকারের) শেয়ার আছে, কিন্তু তালিকাভুক্ত না।”

তাহলে কি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া এখন শুরু হবে? কোম্পানিগুলো কি রাজি হয়েছে? এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “শুরু হবে। ওরা বলেছে ওদের সিদ্ধান্ত বোর্ড ছাড়া হবে না। তবে সরকার থেকে আমরা সম্মতি দিয়েছি।”

এ বিষয়ে তো আগেও আলোচনা হয়েছে। সালেহউদ্দিন বলেন, “আগে এতো দূর যায়নি। এবার মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে।”

কোম্পানিগুলোকে কি কোনো সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি বলেছি দ্রুত করতে। আমরা চাই প্রক্রিয়াটা শুরু করতে।”

বর্তমান সরকারের মেয়াদে কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা সম্ভাব হবে কি না, জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি। এগুলো জটিল। কোম্পানি আইনকে তো আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।”

অতীতে দেখা গেছে, বৈঠক হয় কিন্তু কোনো কিছু বাস্তবায়ন হয় না।

সালেহউদ্দিন বলেন, “আমরা তো শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে চিঠিও পেয়েছি। ওরা শেয়ার ছাড়বে।”

আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বলেন, “সরকার চাচ্ছে জনগণের স্বার্থে। জনগণের স্বার্থের চেয়ে কোনো বড় স্বার্থ কারো নেই।

“নেসলে যদি বোম্বেতে (মুম্বাই) তালিকাভুক্ত থাকতে পারে, আমাদের এখানে সমস্যাটা কী? ইউনিলিভারের জিএসকের অংশ তালিকাভুক্ত, কিন্তু তাদের মূল অংশ তালিকাভুক্ত না। কিন্তু বোম্বেতে শীর্ষ দশের মধ্যে আছে। পাকিস্তানে আছে, থাইল্যান্ডে আছে।”

তিনি বলেন, “আমি বলবো, তারা যদি কিছু প্রণোদনা চায়, কর ছাড় চাই, সেটা দেওয়া হোক। আর যদি না আসে, তাহলে কর বাড়িয়ে দিতে হবে। ‘ভেরি সিম্পল’। তা না হলে আরও বহুদিন আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে।”

দেশি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, জানতে চাইলে এই পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ বলেন, “সেগুলোর বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। সচিবরা ছিলেন, তারা সম্মতি দিয়েছেন। কিন্তু সমস্যা হলো দেরি করে ফেলে। সরাসরি তালিকাভুক্তিতে দেরি হওয়ার কোনো কারণ আমি দেখি না।”

আবু আহমেদ বলেন, “ইউনিলিভারে সরকারের ৪০ শতাংশের মতো শেয়ার আছে। এই ৪০ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশও ছাড়তে চাই না। আমি বলি আমার সরকারি শেয়ারও বেচতে পারবে না? ওরা বলে বিদেশে ওদের বোর্ড মিটিং লাগবে।”

বৈঠকে ১০ কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের পাশাপাশি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

সর্বশেষ খবর