রিট বিচারাধীন, হচ্ছে না বেক্সিমকো গ্রুপের তিন কোম্পানির পর্ষদ সভা

প্রকাশ :

সংশোধিত :

স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ নিয়ে রিট আবেদন বিচারাধীন থাকায় গত বছরের মার্চ মাস থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিনটি কোম্পানির কোনো পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি সময়ের মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এবং শাইনপুকুর সিরামিকসে মোট ২৫ জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়।

শ্রমিক অসন্তোষ, বেতন-ভাতা বকেয়া এবং ঋণ খেলাপি ইস্যুতে বেক্সিমকো জড়িয়ে পড়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার তিন বছরের জন্য এসব স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের পদক্ষেপ নেয়। যদিও অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকার শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল, তবে স্বতন্ত্র পরিচালকদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রুপের বাকি পরিচালন ও সুশাসন সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান করার।

এই নিয়োগের পরপরই বেক্সিমকো ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন দায়ের করে। এরপর থেকে কোম্পানিগুলোর পর্ষদ আর্থিক ফলাফল অনুমোদন বা আলোচনার জন্য কোনো সভা করেনি। এমনকি তারা ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন, বার্ষিক প্রতিবেদন বা মাসিক শেয়ার ধারণের বিবরণীও প্রকাশ করেনি।

বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, কোম্পানিগুলো বিচারাধীন রিট আবেদনকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আইন পরিপালন এড়ানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, বেক্সিমকোর কর্মকর্তারা দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে জানান, রিট আবেদনটির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তারা পর্ষদ সভা করতে পারছেন না।

এরই মধ্যে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বৃহস্পতিবার এক আদেশে আগামী ১২ দিনের মধ্যে কোম্পানিগুলোকে পর্ষদ সভা করার নির্দেশ দিয়েছে।

বিএসইসির করপোরেট সুশাসন কোড বা বিধিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির পর্ষদ সদস্যদের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ স্বতন্ত্র পরিচালক হতে হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপের আগে শাইনপুকুর সিরামিকসের পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালকসহ সাতজন পরিচালক ছিলেন, যা সুশাসন বিধিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। পরবর্তীতে বিএসইসি এর পর্ষদে আরও সাতজন অতিরিক্ত স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়।

একইভাবে, বেক্সিমকো লিমিটেডের আগে নয়জন পরিচালক ছিলেন, এরপর বিএসইসি আরও নয়জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়। বর্তমানে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালকের সংখ্যা ১৮, যার মধ্যে সরকার নিযুক্ত স্বতন্ত্র পরিচালক রয়েছেন নয়জন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেক্সিমকো গ্রুপের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা "নিজেদের বিধি লঙ্ঘন করে" অতিরিক্ত সংখ্যক স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে। তবে, এই নিয়োগ কীভাবে সুশাসন বিধিমালা লঙ্ঘন করেছে তা তিনি ব্যাখ্যা করতে পারেননি, কারণ ওই বিধিতে স্বতন্ত্র পরিচালকদের ক্ষেত্রে কেবল ন্যূনতম সংখ্যার শর্ত উল্লেখ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোম্পানিগুলোর সংঘস্মারক বা মেমোরেন্ডাম এত বড় আকারের পর্ষদ গঠনের অনুমতি দেয় না।

রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট প্রথমে বিএসইসির সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দেয় এবং জানতে চায় কেন এই পদক্ষেপ বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। পরে বিএসইসি ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে।

আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশ তুলে নেয় এবং শুনানির পর রুল নিষ্পত্তির জন্য বিষয়টি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে ফেরত পাঠায়। গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদনটি আপিল বিভাগে ফিরে আসে, যা এখন পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য হাইকোর্টের অন্য কোনো বেঞ্চে পাঠানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিএসইসি মুখপাত্র জনাব কালাম বলেন, কোম্পানিগুলোর পর্ষদ আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে এবং তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থে পর্ষদ সভা করা, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা এবং বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করতে তারা বাধ্য। 

mufazzal.fe@gmail.com

সর্বশেষ খবর