এআই শক্তিতে বুদ্ধিমত্তার নতুন যাত্রা, ঢাকায় উদ্বোধন হলো ‘আইটু বাংলাদেশ’

প্রকাশ :

সংশোধিত :

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘Smart Manufacturing Future – AI Leads Apparel Transformation’ শীর্ষক ‘আইটু বাংলাদেশ’–এর উদ্বোধনী আয়োজন। সোমবার (১১ মে) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিকেএমইএ (BKMEA) ও বিজিএমইএ (BGMEA)–এর প্রতিনিধিসহ দেশের দুই শতাধিক পোশাক কারখানার শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়নের নতুন দিক তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে উন্মোচন করা হয় বেশ কয়েকটি আধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তিপণ্য, যার মধ্যে অন্যতম ছিল Ai10+ AI Hanging System।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট জিডিপির বড় একটি অংশ আসে এই শিল্প থেকে। বর্তমানে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে শিল্পখাত।

অনুষ্ঠানে জ্যাক টেকনোলজির গ্লোবাল মার্কেটিং প্রেসিডেন্ট মি. স্টিভ বলেন, বাংলাদেশের বাজার তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বাজার এবং এখানে স্মার্ট ইকুইপমেন্টের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মূল দর্শন ‘প্রতিস্থাপন নয়, ক্ষমতায়ন’—অর্থাৎ স্থানীয় সেবা ও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কারখানাগুলোকে দক্ষতা বৃদ্ধি ও ব্যয় হ্রাসে সহায়তা করা, যাতে মানবসম্পদের সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রেখে শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক শক্তি বাড়ানো যায়। 

অনুষ্ঠানে আইটু টেকনোলজির জেনারেল ম্যানেজার মি. লু বিশ্বের প্রথম AI Sewing Machine সমন্বিত Ai10+ AI Hanging System উপস্থাপন করেন। এ সিস্টেমে রয়েছে AI ভিশন প্রযুক্তি, সম্পূর্ণ ডিজিটাল ফ্লেক্সিবল ফিডিং প্রযুক্তি এবং স্মার্ট হ্যাঙ্গিং সিস্টেম। এটি ডাইনামিক লাইন ব্যালান্সিং এবং একাধিক স্টাইলের মিশ্র উৎপাদন সক্ষম করে, যার ফলে উৎপাদন লাইনের দক্ষতা প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। 

পাশাপাশি এটি উৎপাদন লাইনের সমস্যাগুলো দ্রুত শনাক্ত ও সমাধানে সহায়তা করে এবং অর্ডার ডেলিভারির সময় কমিয়ে আনে। ফলে বড় ও ছোট উভয় ধরনের অর্ডারে দক্ষতা ও গুণগত মান বজায় রাখা সহজ হয়।

বুলমারের (Bullmer) সিএমও মি. কেভিন অনুষ্ঠানে S90 PRO Smart Cutting Solution উন্মোচন করেন। চীন-জার্মান যৌথ গবেষণার মাধ্যমে তৈরি এই প্রযুক্তিতে রয়েছে ২০০টিরও বেশি পেটেন্ট। এতে ব্যবহৃত হয়েছে AI সফটওয়্যার, Ice Blade Cutting Technology এবং Cyclone Vacuum Technology। সম্পূর্ণ স্মার্ট কাটিং রুম সল্যুশনের মাধ্যমে এটি কাপড় ও শ্রম ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় এবং কাটিংয়ের নির্ভুলতা ও গতি বৃদ্ধি করে।

জ্যাক টেকনোলজি বাংলাদেশ শাখার জেনারেল ম্যানেজার মি. কার্টার উপস্থাপন করেন Intelligent Warehousing Solution। AGV, CTUসহ বিভিন্ন স্মার্ট ডিভাইস এবং CWMS ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে কাপড়, কাট-পিস, অ্যাকসেসরিজ থেকে শুরু করে ফিনিশড গুডস পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে ডিজিটালভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। এটি প্রচলিত গুদাম ব্যবস্থাপনার কম দক্ষতা, ভুলের ঝুঁকি এবং উচ্চ শ্রম ব্যয়ের মতো সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান দেয়। ইতোমধ্যেই একাধিক দেশে এই প্রযুক্তির সফল ব্যবহার হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শিল্পখাতের সংগঠন প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড মালিক এবং অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়নে আইতুর অবদানকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেন। তারা মানব-যন্ত্র সহযোগিতাভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং শিল্প উন্নয়নমুখী প্রযুক্তির প্রশংসা করেন।

ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে বাংলাদেশে আইতু তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করবে বলে জানানো হয়। AI-চালিত মানব-যন্ত্র সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং সল্যুশন আরও উন্নত করবে, যাতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প শুধু কম খরচের সুবিধার ওপর নির্ভর না করে বরং কম খরচ, উচ্চ গুণগত মান এবং সর্বোচ্চ দক্ষতার সমন্বয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

সর্বশেষ খবর