স্বাস্থ্য বাজেট ২০২৬-২৭: প্রতিশ্রুতির আধিক্য নাকি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার?

প্রকাশ :
সংশোধিত :

বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতকে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় সরকার সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (Universal Health Coverage) অর্জনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একজন স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমি মনে করি, এসব লক্ষ্য নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে স্বাস্থ্য খাতের প্রকৃত প্রশ্ন হলো—আমরা কি সঠিক খাতে বিনিয়োগ করছি এবং বরাদ্দকৃত সম্পদের সর্বোচ্চ মূল্য (Value for Money) নিশ্চিত করতে পারছি?
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১.০২ শতাংশ। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ—একটি চিত্তাকর্ষক সংখ্যাগত উল্লম্ফন। সরকারের নবনির্বাচিত অর্থমন্ত্রী এই বাড়তি বরাদ্দকে “জনমুখী, দায়িত্বশীল ও ভবিষ্যৎমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গঠনের সূচনা” বলে অভিহিত করেছেন। প্রশ্ন হলো, এই দ্বিগুণ বরাদ্দ কি সত্যিই স্বাস্থ্যখাতের নানামুখী সংকটের স্থায়ী সমাধান আনবে, নাকি এটি কেবল নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের একটি মহড়া? একজন স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমি বাস্তবতার নিরিখে এই বাজেটের কিছু দিক তুলে ধরতে চাই।
বরাদ্দ বৃদ্ধি: স্বাগত, কিন্তু যথেষ্ট নয়
আগের অর্থবছরে স্বাস্থ্য বরাদ্দ ছিল জিডিপির মাত্র ০.৫৮ শতাংশ। তা বাড়িয়ে ১.০২ শতাংশে উন্নীত করাকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করতেই হবে। তবে বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে প্রকৃত অর্থেই স্বাস্থ্য অবকাঠামো ধ্বংসের মুখে পড়েছিল—তথাকথিত উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে, হাসপাতালগুলো রোগী ও জনবল সংকটে জর্জরিত ছিল। এই পটভূমিতে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বাজেট দ্বিগুণ করলেও তা পূর্ববর্তী ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই বরাদ্দ দেশের মোট বাজেট ও জিডিপির তুলনায় কতটা পর্যাপ্ত? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বহুদিন ধরে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে স্বাস্থ্যখাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে আসছে। বাংলাদেশে এখনও স্বাস্থ্য ব্যয়ের একটি বড় অংশ জনগণকে আউট-অব-পকেট খরচ বহন করতে হয়, সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য বছরে লাখ লাখ টাকা খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে অসুস্থতা অনেক পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত না করা পর্যন্ত এই বাজেটকে ‘অগ্রগতি’বললেও ‘চূড়ান্ত সমাধান’বলা যাবে না।
কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি: চমক আছে, সতর্কতাও
উপস্থাপিত বাজেট বক্তৃতায় স্বাস্থ্যখাতের জন্য বেশ কিছু কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে, যা প্রশংসার দাবি রাখে:
প্রথমত, প্রতিটি ইউনিয়নে আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা এবং সেখানে কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার নিয়োগের উদ্যোগ সঠিক দিকনির্দেশনা। বিশেষ করে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাধান্য দেওয়া—এটি সময়োপযোগী।
দ্বিতীয়ত, ‘হেলথ কার্ড’এবং সমন্বিত রোগী ব্যবস্থাপনা (আইপিএমএস) ও রেফারেল সিস্টেমের কথা বলা হয়েছে। ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে পারে, কিন্তু এর বাস্তবায়নে তথ্য গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ডিজিটাল সাক্ষরতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
তৃতীয়ত, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে পিপিপি মডেলে ‘কৌশলগত ক্রয়’-এর প্রস্তাব রোগীদের জন্য আশার খবর। তবে এখানে সতর্ক থাকা জরুরি—বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা যেন জনস্বার্থের বদলে মুনাফাকেন্দ্রিক না হয়। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের রোগীরাই প্রকৃত সুবিধাভোগী হচ্ছেন কিনা।
যেসব প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়নি
কয়েকটি জায়গায় এই বাজেট হতাশ করেছে (গঠনমূলক সমালোচনার আলোকে):
১. জনবল সংকট: স্বাস্থ্যখাতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা:- দেশে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি এখনও একটি বড় সমস্যা। একদিকে নতুন হাসপাতাল নির্মাণ হচ্ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও ধরে রাখার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। একটি আধুনিক হাসপাতাল ভবনের চেয়ে একজন দক্ষ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্স অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য বাজেটে এই বাস্তবতাকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
জনবল সংকটের স্থায়ী সমাধান নেই: ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সুদীর্ঘ ১১ বছর পর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সংস্কারের ঘোষণা এলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য কোনো বিশেষ আর্থিক সুবিধা বা বিপজ্জনক ভাতার কথা বলা হয়নি। পল্লী ও প্রান্তিক এলাকায় কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য প্রণোদনা কাঠামো স্পষ্ট নয়।
২. মেডিকেল শিক্ষার সংস্কার ধোঁয়াশাপূর্ণ: এমবিবিএস কারিকুলামে ‘গ্রামীণ আবাসিক ফিল্ড সাইট ট্রেনিং’ চালু করার প্রস্তাব ভালো। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ঋণ সুবিধা, বিশেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যাংক ঋণের কথা বলা হলেও অভ্যন্তরীণ মেডিকেল কলেজগুলোর ভর্তি ফি ও গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে কোনো কাঠামো প্রস্তাব করা হয়নি। আপাতদৃষ্টিতে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ব্যবসায়িক স্বার্থই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
৩. ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম শিল্পের উন্নয়ন ঝুঁকিপূর্ণ: এপিআই ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে কর ছাড় ও প্রণোদনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমদানিনির্ভরতা কমানোর পরিবর্তে এই প্রণোদনা কি সত্যিই দেশীয় শিল্পকে টেকসই করবে, নাকি কর ফাঁকির আরেকটি পথ তৈরি করবে? স্বাস্থ্যখাতে এ ধরনের শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব যাচাই করার জন্য একটি স্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রয়োজন।
৪. প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব কোথায়?
বিশ্বের সফল স্বাস্থ্যব্যবস্থাগুলো দেখিয়েছে যে, শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় কমায় এবং স্বাস্থ্য ফলাফল উন্নত করে। কিন্তু এই বাজেট কাঠামোয় এখনও হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার ওপর তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবাকে আরও শক্তিশালী করা গেলে রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে বিপুল ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব। গ্রামের মানুষ যেন চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী না হয়, সেটিই হওয়া উচিত স্বাস্থ্যনীতির মূল লক্ষ্য।
৫. স্বাস্থ্যখাতে সুশাসন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ কি সুস্পষ্ট ?
স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে সংবেদনশীল সমস্যা হলো অপচয় ও দুর্নীতি। ওষুধ ক্রয়, যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, নির্মাণকাজ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে বাজেট যতই বাড়ানো হোক না কেন, কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। সরকার নিজেই বাজেট বক্তৃতায় সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং দক্ষ প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা বলেছে। এই প্রতিশ্রুতি শুধু বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ না থেকে স্বাস্থ্যখাতের প্রতিটি স্তরে বাস্তবায়িত করার সুস্পষ্ট পদক্ষেপের কথা উল্লেখ নেই ।
স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য কমাতে হবে
ঢাকার একটি বড় হাসপাতাল এবং একটি প্রত্যন্ত উপজেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে সেবার মানের যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি এমন হতে হবে যাতে একজন নাগরিকের চিকিৎসার মান তার বসবাসের জায়গা দ্বারা নির্ধারিত না হয়। স্বাস্থ্যসেবায় ভৌগোলিক ও সামাজিক বৈষম্য কমানো আগামী দিনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
হাসপাতাল নাকি সেবার মান উন্নয়ন জরুরি?
গত এক দশকে অসংখ্য ভবন নির্মিত হয়েছে। নতুন হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—সেবার মান কি একই হারে উন্নত হয়েছে? আজও অনেক জেলা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। অপারেশন থিয়েটার আছে, কিন্তু অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ নেই। আইসিইউ আছে, কিন্তু প্রশিক্ষিত জনবল নেই। উন্নত যন্ত্রপাতি আছে, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেই। স্বাস্থ্য খাতের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই হবে, যখন অবকাঠামোর পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।
‘হেলথ কার্ড’ ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা: সম্ভাবনা ও বাস্তবতা: স্বচ্ছতা নাকি নতুন জটিলতা?
সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটালাইজেশনের নামে হেলথ কার্ড, ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ড, ও ডিজিটাল ওয়ালেটের প্রস্তাব আপাতদৃষ্টিতে যুগোপযোগী। তবে বাস্তবতা হলো, দেশের অনেক উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এখনও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়: গ্রামের দরিদ্র মানুষ, যারা স্মার্টফোন বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অভাবে ভোগেন, তাদের কাছে এই সুবিধা কীভাবে পৌঁছাবে? ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণে ৬০ হাজারের বেশি নারী পেয়েছেন, কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও প্রকৃত সুবিধাভোগী চিহ্নিতকরণের পদ্ধতি কী? অথচ বক্তৃতার অন্য অংশে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলোর দ্বৈততা ও স্বচ্ছতার অভাবের কথা স্বীকার করা হয়েছে। একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই দ্বন্দ্ব সমাধানের কোনো পরিকল্পনা কী আছে?
বাস্তবায়নই প্রকৃত পরীক্ষা
স্বাস্থ্যখাতে বাজেট দ্বিগুণ করায় সরকারকে প্রথম থেকেই স্বাগত জানাই। কিন্তু অতীতে ফ্যাসিবাদী সরকারের ১৭ বছরের লুটপাট ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার যে ক্ষত, তা পুষিয়ে উঠতে এক বছরের বাজেট বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমার মূল্যায়ন হলো: এই বাজেট স্বাস্থ্যখাতে ‘সংস্কারের প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছে, কিন্তু সেসব সংস্কার বাস্তবায়নে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ নেই।
উপসংহার:
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল, সুশাসন এবং কঠোর জবাবদিহিতা। স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমরা স্বাস্থ্য খাতের যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগকে সমর্থন করি। তবে একই সঙ্গে আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—স্বাস্থ্যখাতে সাফল্য কেবল বাজেটের অঙ্কে নয়, বরং একজন সাধারণ রোগী কত দ্রুত, কত সাশ্রয়ে এবং কত মানসম্পন্ন সেবা পাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে।
সরকারকে এখন প্রমাণ করতে হবে যে, তারা শুধু বক্তৃতায় নয়; বরং কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও জনবল সংকটের স্থায়ী সমাধান আনতে সক্ষম। হাসপাতালের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষারত দরিদ্র রোগী, কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ বহনে অক্ষম মধ্যবিত্ত পরিবার, এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাবে মৃত্যুমুখে পতিত শিশু—তাদের মুখে হাসি ফোটাতে এই বাজেটের প্রতিটি টাকার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, এটি হবে আরেকটি ‘কথার ফুলবুড়ি’ মাত্র যেখানে স্বাস্থ্যসেবার নামে বাজেট বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাভ হবে লুটপাটকারী ও দুর্নীতিবাজদের।
বাংলাদেশের মানুষ নতুন হাসপাতালের নামফলক নয়, কার্যকর চিকিৎসাসেবা চায়। বাজেটের প্রকৃত সাফল্য তখনই হবে, যখন দেশের প্রতিটি নাগরিক নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন—“অসুস্থ হলে চিকিৎসা পাব, আর চিকিৎসার খরচে নিঃস্ব হব না।” সরকার যদি সত্যিই সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়, তাহলে স্বাস্থ্য খাতকে ব্যয় নয়, বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। কিন্তু এবারের বাজেটে সেই দৃষ্টিভঙ্গির পূর্ণ প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই না।
লেখক: অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাদরুল আলম পিএইচডি, স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদের বিশ্লেষণ।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.