বিজ্ঞানের শক্তিতে সুরক্ষিত হোক আগামীর প্রজন্ম: বিশ্ব স্বাস্থ্য ও শিশু সার্জারি দিবস ২০২৬

প্রকাশ :
সংশোধিত :

বিশ্ব স্বাস্থ্য ও শিশু সার্জারি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দিবসটি উদযাপিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে এক বার্তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাদরুল আলম বলেন, একই দিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ও শিশু সার্জারি দিবস পালিত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তিনি বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ, সময়োপযোগী ও সাশ্রয়ী সার্জারি সেবা নিশ্চিত না করলে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন সম্ভব নয়।
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাদরুল আলম জানান, সার্জারি কোনো বিলাসিতা নয়, এটি শিশুর বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার। তিনি বলেন, শিশুদের জন্য সুলভ ও নিরাপদ শল্যচিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে টেকসই স্বাস্থ্যের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না। তাই বিজ্ঞানের শক্তি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ, সময়োপযোগী ও সাশ্রয়ী সার্জারি সেবা নিশ্চিত করা ছাড়া সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন কোনোদিনই সম্ভব নয়। এ দিনটিকে প্রতিটি শিশুর কাছে আধুনিক বিজ্ঞানের সুফল পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণ করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অধ্যাপক শাদরুল আলম বলেন, শিশু সার্জারি কোনো আনুকূল্য নয়, বরং এটি জনস্বাস্থ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। একটি শিশুর অস্ত্রোপচার মানে তার আগামী ৮০ থেকে ৯০ বছরের সুস্থ জীবনের সম্ভাবনা নিশ্চিত করা, যা একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘লাইফটাইম ইনভেস্টমেন্ট’।
তিনি আরও জানান, শিশুদের সার্জারি কেবল জীবন রক্ষা করে না, এটি পঙ্গুত্ব প্রতিরোধ করে দেশের উৎপাদনশীল জনশক্তি বৃদ্ধি করে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। জনস্বাস্থ্যের ভাষায় এটি ‘ডিসঅ্যাবিলিটি অ্যাডজাস্টেড লাইফ ইয়ারস (ডেলি)’ সাশ্রয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিজ্ঞানের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক মাইক্রো-সার্জারি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়তায় রোবোটিক বা মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতির মাধ্যমে এখন নবজাতকদের জটিল অস্ত্রোপচারও সফলভাবে করা সম্ভব হচ্ছে, যা বিজ্ঞানের এক বড় অর্জন।
অধ্যাপক শাদরুল আলম আরও বলেন, সার্জারি যেন কোনো বিলাসিতা হিসেবে না দেখে প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেটিই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।
তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ও শিশু সার্জারি দিবস একসাথে পালনের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য সামনে এসেছে—শিশুদের জন্য নিরাপদ, সময়োপযোগী ও সাশ্রয়ী শল্যচিকিৎসা নিশ্চিত করা ছাড়া সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সার্জারি জনস্বাস্থ্যের কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ নয় এবং এ বিষয়ে অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাস করার সময় এসেছে। বিশ্বব্যাপী এখন লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি শিশুর দোরগোড়ায় নিরাপদ ও সাশ্রয়ী অপারেশন সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।
অধ্যাপক শাদরুল আলম বলেন, শিশু সার্জারি কেবল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ। মা ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সার্জারিকে অন্তর্ভুক্ত না করলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘টুগেদার ফর হেলথ। স্ট্যান্ড উইথ সায়েন্স’ প্রতিপাদ্য ধারণ করে এমন একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে হবে, যেখানে অর্থ বা দূরত্বের কারণে কোনো শিশুর অস্ত্রোপচার বাধাগ্রস্ত হবে না। একটি শিশুর সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি পুরো প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সবশেষে তিনি বলেন, বিজ্ঞানের ওপর আস্থা রেখে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ পৃথিবী আরও সুস্থ হয়ে উঠবে।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.