তিস্তা মহাপরিকল্পনায় নদী ড্রেজিংয়ের সুপারিশ, বাস্তবায়নে চলছে কারিগরি যাচাই-বাছাই

প্রকাশ :
সংশোধিত :

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমীক্ষা প্রতিবেদনে নদীর প্রায় ১১০ কিলোমিটার অংশ ড্রেজিং করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজেদুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জমা দেওয়া সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কারিগরি ও আর্থিক দিকগুলো বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রকল্পটি গ্রহণযোগ্য হলে এর সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা মূলত উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ। এর লক্ষ্য হলো নদী ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করা।
এই পরিকল্পনার আওতায় নদীর দুই তীর রক্ষা, নদী খনন ও প্রশস্তকরণ, জলাধার ও ব্যারেজ উন্নয়ন এবং আধুনিক সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি কমানো এবং বর্ষায় বন্যার ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
সরকার মনে করছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রংপুর অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং নদীভাঙন কমবে। পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক শিল্প ও পর্যটন খাতেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
তবে এই প্রকল্পের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা। উজানের ভারতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তিস্তার পানিপ্রবাহ মৌসুমভেদে ওঠানামা করে, যা প্রকল্পের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এজন্য কার্যকর পানি বণ্টন চুক্তির গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সংসদে আরও বলেন, তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী। বর্ষায় অতিবৃষ্টির কারণে এখানে হঠাৎ বন্যা ও নদীভাঙন দেখা দেয়, আর শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ প্রায় কমে যায়। এছাড়া পলি জমে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে একাধিক ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে।
২০১৬ সালে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়না এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে এই মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়ন করে। পরে ভারতও প্রকল্পে অংশগ্রহণ ও অর্থায়নে আগ্রহ দেখালেও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উদ্যোগটি দীর্ঘ সময় আটকে থাকে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার পুনরায় চীনের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয় এবং ২০২৯ সালের মধ্যে প্রথম ধাপ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
প্রথম ধাপের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা, যার একটি বড় অংশ চীনের ঋণ হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি অর্থ রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.