শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সংসদে পাস

প্রকাশ :
সংশোধিত :

দেশের শিল্প খাতে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা নিরসন এবং শ্রমিকদের অধিকার সুসংহত করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে 'বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬'।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা 'বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫' আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিল আকারে পাসের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হলো।
পাস হওয়া নতুন আইনে শ্রমিকদের স্বার্থে বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে শতকরা হারের জটিলতা থাকছে না এবং সর্বনিম্ন ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতেই ইউনিয়ন গঠনের আবেদন করা যাবে। নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ১১২ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন বা চার মাস করা হয়েছে। এছাড়া বার্ষিক উৎসব ছুটি ১১ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৩ দিনে উন্নীত করা হয়েছে এবং ১০০ বা তার বেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন এমন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দুই তৃতীয়াংশ শ্রমিকের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ভবিষ্যৎ তহবিল গঠন অথবা জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের প্রগতি স্কীমে অংশগ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।
এই আইনে কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা ও জেন্ডার সমতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো 'যৌন হয়রানি'র সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নারী প্রধান 'অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি' গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই কাজে নারী ও পুরুষের মজুরি বৈষম্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া গৃহকর্মী, কৃষি শ্রমিক ও নাবিকদের শ্রম আইনের নির্দিষ্ট ধারার আওতায় এনে তাদের অধিকারের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আইনে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠণ এবং যৌথ দর-কাষাকষি প্রতিনিধি মনোনয়নের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়াও এ আইনে জাতীয় পর্যায়ে শ্রম আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় সামাজিক সংলাপ ফোরাম গঠণসহ শ্রমবিরোধ নিষ্পত্তিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষ গঠণের বিধান রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কনভেনশন আনুসারে নাবিকের সংজ্ঞা বিস্তৃত করা হয়েছে। শ্রমিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের অন্যায়ভাবে 'ব্ল্যাক লিস্টিং' করাকে অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
বিলটি পাসের সময় অধিবেশনে জানানো হয় যে, এই আইন পাস হওয়া কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা এবং শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের প্রতিফলন।
এটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মানদণ্ড নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার ধরে রাখার পাশাপাশি জিএসপি প্লাস সুবিধা প্রাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের বৃহত্তম একক রপ্তানি বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১১ দফার বাস্তবায়নেও এটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সরকার আশা করছে, এই আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক স্থাপিত হবে এবং দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস পোশাক খাতসহ সামগ্রিক শিল্পে ইতিবাচক ও স্থিতিশীল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.