২০২৫ সালে শিশুহত্যা ও যৌন নির্যাতন
নিজ ঘরেই সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ শিশুরা: প্রতিবেদন

প্রকাশ :
সংশোধিত :

গত ২০২৫ সালে সারা দেশে ১২৪ জন শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে এবং ৩০৮ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৬৬.১২ শতাংশই ঘটেছে পারিবারিক পরিবেশে এবং অর্ধেকের বেশি ক্ষেত্রে হত্যাকারী ছিলেন শিশুর মা-বাবা বা নিকটাত্মীয়।
শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘শিশুরাই সব’-এর গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণভিত্তিক এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, নিহত ১২৪ জন শিশুর মধ্যে ৬৩ জন মেয়ে এবং ৫৯ জন ছেলে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে ছিল শূন্য থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুরা, যাদের ৬৪ জনই হত্যার শিকার হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের তথ্যে দেখা যায়, ৩৮টি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি মা-বাবা এবং ২৬টি ঘটনায় নিকটাত্মীয় জড়িত ছিলেন। এছাড়া প্রতিবেশী বা পরিচিতদের দ্বারাও ১৪.৫২ শতাংশ শিশু খুন হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে পারিবারিক কলহ ও দ্বন্দ্বকে (৩৭.৯ শতাংশ) দায়ী করা হয়েছে।
২০২৫ সালে শিশুদের ওপর সংঘটিত ৩০৮টি যৌন নির্যাতনের ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি (৯০টি বা ২৯.২২ শতাংশ) ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়াদের মধ্যে ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী এবং এক্ষেত্রে মেয়ে শিশুদের হারই সবচেয়ে বেশি।
যৌন নির্যাতনের স্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫৯.০৯ শতাংশ ঘটনাই ঘটেছে ব্যক্তিগত স্থানে, বিশেষ করে শিশুর নিজের বা অপরাধীর ঘরে। এসব ক্ষেত্রে অধিকাংশ অপরাধীই ছিল শিশুর পূর্বপরিচিত—যেমন প্রতিবেশী, আত্মীয় বা শিক্ষক।
প্রতিবেদনে বিচারহীনতার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ১২৪টি শিশুহত্যার মধ্যে মাত্র ৩৫টি ঘটনার মামলা হয়েছে এবং মাত্র দুটি ঘটনায় অপরাধীর সাজা পাওয়ার খবর গণমাধ্যমে এসেছে।
শিশু নির্যাতন রোধ ও সুরক্ষায় ‘শিশুরাই সব’ সংস্থাটি সব প্রশাসনিক পর্যায়ে শাখাসহ একটি ‘জাতীয় শিশু কমিশন’ প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, শিশু নির্যাতন মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.