মাঠ ও পার্ক দখলমুক্ত ও আধুনিকায়নে সরকার কাজ করছে: মির্জা ফখরুল


স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দেশের মাঠ ও পার্ক পুনরুদ্ধার, আধুনিকায়ন এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আজ সোমবার (৮ জুন) সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি কর্তৃক কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে একসময় খেলার মাঠ ও পার্ক শিশু-কিশোর ও সাধারণ মানুষের বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল। তবে বর্তমানে এসব স্থানের অনেক অংশ মাদকসেবী, অবৈধ দখলদার, হকার এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও কাঁচাবাজার, কোথাও ক্লাব ও স্থাপনা নির্মাণের কারণে মাঠের স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১২৯টি ওয়ার্ডে মোট ২৩৫টি খেলার মাঠ থাকলেও কার্যকরভাবে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে মাত্র ৪২টি মাঠ, যা মোটের প্রায় ১৮ শতাংশ। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজধানীতে ১২৬টি মাঠ হারিয়ে গেছে বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
খেলার মাঠকে নগরের ‘ফুসফুস’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য মাঠ ও পার্ক অপরিহার্য। মোবাইলনির্ভর জীবন থেকে শিশুদের ফিরিয়ে আনতে এসব উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ ও উন্নয়ন জরুরি।
জবাবে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংসদ সদস্যের অনেক পর্যবেক্ষণই বাস্তবসম্মত। অতীতে বিভিন্ন কারণে মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান দখল হয়ে গেলেও বর্তমান সরকার তা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।
তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। এর মধ্যে গুলিস্তানের শহীদ মতিউর রহমান পার্ককে দখলমুক্ত করে আধুনিক পার্কে রূপান্তর করা হয়েছে। এছাড়া মতিঝিল, নবাবগঞ্জ, রসুলবাগ, খিলগাঁও-বাসাবো, সাদেক হোসেন খোকা মাঠ, হাজারীবাগ পার্কসহ বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৩৮টি পার্ক ও মাঠ আধুনিকায়ন করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। একইসঙ্গে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। চট্টগ্রাম ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনেও পার্ক ও মাঠ উন্নয়ন এবং দখলমুক্ত রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় প্রাথমিক পর্যায়ে আন্তঃস্কুল ফুটবল ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা জোরদার করা হয়েছে, যা তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি মাদককে একটি বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, এর জন্য সামাজিক সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, যুবসমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে একটি গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে সরকার কাজ করছে। মাঠ ও পার্কগুলোকে দখলমুক্ত, নিরাপদ ও শিশু-কিশোরবান্ধব পরিবেশে গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.