জ্বালানি খাতে পাঁচটি উদ্যোগের ঘোষণা দিলেন অর্থ উপদেষ্টা


প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, জ্বালানি খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের ‘দুষ্টচক্র’ ভেঙে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচটি মূল উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
আজ রোববার (১৭ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে আয়োজিত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও ঢাকা স্ট্রিম।
তিনি বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা ও ব্যবহার চাহিদার মধ্যে বড় ব্যবধান, অস্বচ্ছ চুক্তি এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন অপরিহার্য।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাঁচটি উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, প্রথমত, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য সামনে রেখে জ্বালানি মিশ্রণ পুনর্গঠন করা হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বৃদ্ধি করা হবে। দ্বিতীয়ত, ভোক্তা ও শিল্প খাতের আয় বিবেচনায় নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মূল্য কাঠামো তৈরি করা হবে।
তৃতীয়ত, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ ও দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত করা হবে, যাতে আমদানি নির্ভরতা কমে। চতুর্থত, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। পঞ্চমত, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জ্বালানি মজুদের একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে কিছু গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে জ্বালানি খাত প্রতিযোগিতামূলক হয়নি, যার ফলে ভর্তুকির চাপ বেড়েছে। এই কাঠামোগত সমস্যা সমাধান ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পায়ন টেকসই হবে না।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ প্রায় ৫ শতাংশ, যা খুবই কম। তাই বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, নিয়মিত জ্বালানি রূপান্তর প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সোলার পাম্পসহ নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিকে সমন্বিত নীতির আওতায় আনতে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, লিথিয়াম ব্যাটারির ব্যবহার বাড়াতে কর ও শুল্ক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে এবং ইভি খাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও চলছে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এতে বিভিন্ন গবেষক, নীতিনির্ধারক ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.