সীতাকুণ্ডে র্যাব সদস্য হত্যায় গ্রেপ্তার আরও ৩

প্রকাশ :
সংশোধিত :

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় ‘স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায়’ র্যাব সদস্য নিহতের ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মো. পারভেজ (৩৫), মো. বেলাল (৩০) এবং সাইদুল ইসলাম (২৬)। র্যাবের দাবি, তারা সবাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
আজ শনিবার (২৮ মার্চ) র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার নবগ্রাম এলাকা থেকে পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থেকে বেলাল এবং বায়েজিদ থানার শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকা থেকে সাইদুলকে আটক করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি র্যাবের একটি দল কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযান চালাতে গেলে স্থানীয়রা মাইকিং করে তাদের ঘিরে ফেলে এবং তিনজন সদস্যকে আটক করে। পরে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে উপ-সহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় র্যাব-৭ সীতাকুণ্ড থানায় ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০-২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে।
র্যাব জানায়, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনকে র্যাব এবং ৭ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
প্রশাসনিকভাবে জঙ্গল ছলিমপুর সীতাকুণ্ড উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও সেখানে প্রবেশ করতে হয় চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকা দিয়ে। বায়েজিদ লিংক রোড হয়ে ভাটিয়ারির পথে ডান পাশে এ এলাকার অবস্থান।
প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাস জমির ওপর গড়ে ওঠা জঙ্গল ছলিমপুর টিলা কেটে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, যা এখন এক ধরনের ‘দুর্গম এলাকায়’ পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ২০০৪ সাল থেকে সেখানে বসতি গড়ে ওঠা শুরু হয়। বর্তমানে ৮ থেকে ১০ হাজার পরিবারে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। পুরো এলাকাটি ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে ১১টি ‘সমাজে’ বিভক্ত।
বাসিন্দাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নিম্নআয়ের মানুষ স্বল্পমূল্যে জমি কিনে এখানে বসবাস শুরু করেন। অধিকাংশই রিকশাচালক, দিনমজুর, ঠেলাগাড়ি চালক, হোটেল কর্মী ও গার্মেন্টস শ্রমিক।
বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংবাদকর্মীরা সেখানে গেলে স্থানীয়দের হামলার মুখে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এর আগে গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ওই এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশি পিস্তল, একটি এলজি, ২৭টি পাইপগান, ৩০টি খালি ম্যাগাজিন, ৬১টি কার্তুজ, ১১৬৪ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেলসহ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় এবং ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.