
প্রকাশ :
সংশোধিত :

অনেক জল্পনা-কল্পনা ও রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নির্ধারিত হয়েছে কক্সবাজার জেলার চার সংসদীয় আসনের ফলাফল। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত ফলাফলে কক্সবাজারের চারটি আসনেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
কক্সবাজার–১ (চকরিয়া–পেকুয়া):
এ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৮৪০। ফল ঘোষণার পর চকরিয়া ও পেকুয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইতে দেখা যায়।
কক্সবাজার–২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া):
ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট।
কক্সবাজার–৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও):
কেন্দ্রীয় বিএনপির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৬০ ভোট পেয়ে বিজয় নিশ্চিত করেছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী শহিদুল আলম বাহাদুর পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৪ ভোট। নির্বাচনী লড়াইয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হলেও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখেন কাজল।
কক্সবাজার–৪ (উখিয়া–টেকনাফ):
জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী ১ লাখ ২২ হাজার ৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নুর আহমেদ আনোয়ারী পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৭২৬ ভোট। ফল ঘোষণার পর উখিয়া ও টেকনাফজুড়ে বিএনপি সমর্থকদের বিজয় মিছিল ও আনন্দ উদযাপন করতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচিত চারজনই এর আগে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক দক্ষতা নিয়ে তারা আবারও জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে কক্সবাজার–১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পেতে পারেন। এতে পেকুয়া–চকরিয়াসহ জেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর জেলার বিভিন্ন স্থানে বিজয় মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ-উল্লাসের খবর পাওয়া গেছে।
tahjibulanam18@gmail.com


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.