তোফাজ্জল হত্যাকাণ্ড: ২৮ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল

প্রকাশ :
সংশোধিত :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার ১৫ মাস পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। অভিযোগপত্রে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও অন্যান্য ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পিবিআই-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম ১৫ ডিসেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পুলিশ জানায়, নিহত তোফাজ্জল হোসেনকে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের অতিথি কক্ষে ধরে মারধর করা হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মারধরের আগে তাকে ভাত খাওয়ানো হয় এবং খাবারের স্বাদ জানতে চাওয়া হয়। রাত ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রথম মামলাটি ১৯ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় দায়ের করা হয়। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, ছাত্রলীগের কিছু শিক্ষার্থী তাকে মূল ভবনের অতিথি কক্ষে নিয়ে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ এনে মারধর করে। পরে তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে বেধড়ক মারধর করা হয়।
পিবিআই-এর নতুন অভিযোগপত্রে ২৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। তবে বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, তদন্ত যথাযথ হয়নি এবং তিনি নারাজি দাখিল করবেন।
তোফাজ্জলের পরিবার জানায়, তার মানসিক সমস্যার কারণে তিনি কোনো কাজকর্মে যুক্ত ছিলেন না। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর তার বড় ভাই দেখাশোনা করতেন, কিন্তু তারা শেষ কয়েক বছরে মারা যাওয়ায় তার পরিচর্যা কেউ করতে পারেনি। মানসিক চিকিৎসার জন্য চেষ্টা করা হলেও সফল হয়নি। ওই সময় তিনি পাবনার মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার কথা থাকলেও শিকল ভেঙে পালিয়ে যান এবং ঢাকায় থাকতেন।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগামী ১০ মার্চ শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন। অভিযোগপত্রে জালাল মিয়া, সুমন মিয়া, ফিরোজ কবির, আবদুস সামাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, ওয়াজিবুল আলম, আহসান উল্লাহ, ফজলে রাব্বি, ইয়ামুস জামান, রাশেদ কামাল অনিক, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান ও মো. সুলতানসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.