শহীদ মিনারে গুলি ও কুপিয়ে কলেজছাত্র হত্যা, আটক ৩

প্রকাশ :

সংশোধিত :

ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে এক কলেজছাত্রকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে নারীসংক্রান্ত বিরোধ জড়িত থাকতে পারে।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে আপাতত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

রোববার রাতে শহীদ মিনার এলাকায় বোরহান উদ্দিন কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ২৫ বছর বয়সী রাকিব আহমেদকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। রাকিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে টিকটকের জন্য ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন। তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী।

ঘটনার সময় রাত প্রায় সোয়া ৯টার দিকে রাকিব বন্ধুদের সঙ্গে শহীদ মিনারে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় তিন-চারজন দুর্বৃত্ত তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে এবং মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান নিহতের বন্ধু আল-আমিন।

রাকিবের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার চৌমুহনী গ্রামে। তার বাবা তরিকুল ইসলাম খোকন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৈত্রী হলের কর্মচারী। পরিবার নিয়ে তারা বর্তমানে নিমতলীর নাজিম উদ্দিন রোড এলাকায় বসবাস করতেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নারীসংক্রান্ত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর স্থানীয় জনতা এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, হামলায় সরাসরি জড়িত আরও দুইজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের ওপর নজরদারি চলছে। যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, একাধিক প্রেমের সম্পর্ক এবং হামলাকারীদের একজনের স্ত্রীকে নিজের স্ত্রী বানানোর চ্যালেঞ্জ থেকে সৃষ্ট ক্ষোভের জের ধরেই এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ঘটনার পরপরই একজনকে আটক করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় রাকিবের বাবা তরিকুল ইসলাম খোকন শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাকিবের শরীরে প্রায় ১০টি কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। এর মধ্যে একটি গুলি ডান পাশের কানের ওপর দিয়ে মাথায় ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে। অন্যটি তার পিঠের ডান পাশে লাগে।

নিহতের মা রাজিয়া বেগম দাবি করেছেন, তার ছেলের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাকিবের স্ত্রী হাবিবা আক্তার বলেন, বগুড়ায় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিয়েতে গিয়ে তার স্বামীর সঙ্গে জান্নাত মুন নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের পরিচয় হয়। এরপর থেকে ওই নারী তাদের বাসায় যাতায়াত করতেন।

তিনি আরও বলেন, একসময় তার স্বামী টের পান, জান্নাত ফোনে কারও সঙ্গে মাদক বহন সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলছিলেন। বিষয়টি নিয়ে জান্নাতের প্রেমিক রাকিবকে হত্যার হুমকি দেন। পরে ফেসবুকে মন্তব্য করা নিয়েও আবার হুমকি দেওয়া হয় এবং গুলি করে হত্যার কথাও বলা হয়েছিল।

রোববার রাতে বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে শহীদ মিনার এলাকায় গেলে সেই হুমকি প্রদানকারীরাই পরিকল্পিতভাবে রাকিবকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করছেন তিনি।

ওসি মনিরুজ্জামান জানান, জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

সর্বশেষ খবর