শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন: কারণ অনুসন্ধান চলছে, মামলা হয়নি

প্রকাশ :
সংশোধিত :

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আজ শনিবার রাত পর্যন্ত কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়নি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় সন্দেহের ভিত্তিতে ডিএইচএল কুরিয়ার সার্ভিসের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।
তবে ডিএইচএল বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের কোনো কর্মীকে আটক করা হয়নি এবং সবাই নিরাপদে আছেন।
গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা ২৪ মিনিটে কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। কুরিয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হয় এমন অংশে একটি কনটেইনারে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরেও একই এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল।
বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, আগের ঘটনাতেও ডিএইচএলের সংরক্ষণস্থলে আগুন লেগেছিল। এবারও তাদের একটি কনটেইনারে আগুন লাগায় প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএইচএল বাংলাদেশের মার্কেটিং ও কমিউনিকেশন প্রধান নুর ইয়াজদানি বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের সব কর্মী নিরাপদে রয়েছেন।
কোম্পানির ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, এখনও মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।
কার্গো ভিলেজে প্রবেশের জন্য বিশেষ অনুমতিপত্র প্রয়োজন হয় এবং অনুমোদিত ব্যক্তিরাই কেবল সেখানে প্রবেশ করতে পারেন।
দুই অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে প্রায় আট মাসের ব্যবধান থাকলেও সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে শনিবার রাত পর্যন্ত কোনো মামলা বা জিডি হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করতে আসেননি, তবে পুলিশ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, আগুনের উৎপত্তি ও কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি এটি নাশকতার ঘটনা কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগুন লাগার স্থানের পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে এবং সেখানে কিছু তার পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত শর্ট সার্কিটের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনাস্থলের আশপাশে সিগারেটের অবশিষ্টাংশও পাওয়া গেছে। ধূমপান নিষিদ্ধ এলাকায় কারা ধূমপান করেছে এবং এর সঙ্গে আগুনের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তাও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.