৭টি আচরণে বুঝবেন কেউ আপনাকে নিজের সুবিধামতো নিয়ন্ত্রণ করছে কি না

প্রকাশ :
সংশোধিত :

আমাদের চারপাশে সবাই খারাপ মানুষ নয়। কিন্তু সবাই যে সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আচরণ করে, তাও না। বন্ধুত্ব, প্রেম, পরিবার, অফিস সব জায়গাতেই এমন মানুষ থাকে, যারা সরাসরি জোর না করে ধীরে ধীরে আপনাকে নিজেদের সুবিধামতো নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। এটাকেই বলে ম্যানিপুলেশন।
সমস্যা হলো, ম্যানিপুলেশন খুব সূক্ষ্ম হয়। শুরুতে বোঝাই যায় না। বরং মনে হয় এটি আপনার 'ভালোর' জন্যই বলা হচ্ছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আপনি টের পান, আপনার সিদ্ধান্ত, অনুভূতি, এমনকি আত্মবিশ্বাসও অন্যের হাতে চলে যাচ্ছে। তাহলে বুঝবেন কীভাবে? নিচে এমন সাতটি আচরণ দেওয়া হলো যেগুলো দেখলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
১. আপনার অনুভূতিকে বারবার তুচ্ছ করা
আপনি কোনও কষ্টের কথা বললেন। সে সঙ্গে সঙ্গে বলল “এটাও কোনো সমস্যা?” বা “তুমি বেশি ভাবছো, এত সেনসিটিভ হলে চলবে?”
এভাবে কেউ যদি বারবার আপনার অনুভূতিকে ছোট করে, তাহলে সেটি বিপদের সংকেত। কারণ, ম্যানিপুলেটর চায় আপনি নিজের অনুভূতির ওপরই সন্দেহ করতে শুরু করুন। ধীরে ধীরে আপনি ভাবতে থাকবেন “আসলেই কি আমার কষ্টটা অযৌক্তিক?”
২. সব সময় নিজেকে পরিস্থিতির শিকার বানানো
ম্যানিপুলেট করা মানুষ প্রায়ই নিজেকে ভিকটিম বা পরিস্থিতির শিকার ভাবে। যে ভুলই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত দোষটা এসে পড়ে আপনার ওপরই।
উদাহরণ হিসেবে “আমি এমন করতাম না, যদি তুমি আমাকে আগেই বুঝতে।”
“তুমি এমন ব্যবহার না করলে আমি রেগে যেতাম না।” ফলাফল কী হয়? আপনি নিজেই নিজেকে দোষ দিতে শুরু করেন। অথচ বাস্তবে অন্যজন নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে।
৩. আপনার মাঝে অপরাধবোধ তৈরি করবে, ভুলের দায় আপনার ওপর দিবে
ম্যানিপুলেশনের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো গিল্ট ট্রিপ। সে হয়তো বলবে, “আমি তোমার জন্য এত কিছু করি, আর তুমি এটুকুও পারো না?”
“আমার জায়গায় থাকলে তুমি বুঝতে।”
এতে করে আপনি নিজের ইচ্ছা নয়, অপরাধবোধ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেন। আপনি ‘না’ বলতে ভয় পান, কারণ তাতে নিজেকে খারাপ মানুষ মনে হয়।
৪. ভালোবাসা বা স্বীকৃতি শর্তসাপেক্ষ করা
আজ আপনি তার কথামতো চললেন সে খুব ভালো। কাল একটু নিজের মতো করলেন ঠান্ডা ব্যবহার, চুপচাপ থাকা, দূরত্ব। এটাই শর্তসাপেক্ষ ভালোবাসা। মানে, আপনি যদি তার মতো না হন, তার পছন্দমতো না চলেন, তাহলে ভালোবাসা বা সম্মান পাবেন না। এভাবে ধীরে ধীরে আপনি নিজের স্বাভাবিক আচরণ বদলে ফেলতে শুরু করবেন, শুধু অন্যজনকে খুশি রাখার জন্য।
৫. আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করার চেষ্টা
ম্যানিপুলেটর চায় আপনি শুধু তার ওপর নির্ভরশীল থাকুন। সে হয়তো বলবে “ওরা তোমাকে বোঝে না। ওদের সঙ্গে কথা বলে কী লাভ? আমি ছাড়া আর কেউ তোমার পাশে নেই।” ধীরে ধীরে আপনি বন্ধু, পরিবার বা সহকর্মীদের থেকে দূরে সরে যান। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আপনার সামনে আর কোনও বিকল্প মতামত থাকে না শুধু ওই একজনেরটা।
৬. কথা ঘুরিয়ে দেওয়া ও সত্য অস্বীকার করা
আপনি কোনও বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। সে বলল “আমি এমন কিছু বলিনি।”
“তুমি ভুল বুঝেছ।”
“তোমারই মনে হয়েছে শুধু।”
এভাবে বারবার আপনার স্মৃতি বা উপলব্ধিকে অস্বীকার করা হলে একে বলা হয় গ্যাসলাইটিং। এর ফল ভয়ংকর। এতে করে আপনি নিজের স্মৃতি, বিচারবুদ্ধি এমনকি বাস্তবতাকেই সন্দেহ করতে শুরু করেন।
৭. সব সিদ্ধান্তে সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ
সে সরাসরি আদেশ দেয় না। বরং এমনভাবে কথা বলে, যাতে সিদ্ধান্তটা আপনার মনে হলেও আসলে তার ইচ্ছাই পূরণ হয়। যেমন “আমি তো জোর করছি না, কিন্তু এটা করলে ভালো হতো।”
“তুমি নিজেই ভাবো, কোনটা ঠিক।” কিন্তু যদি লক্ষ্য করেন, প্রায় সব ‘নিজের সিদ্ধান্তই’ শেষ পর্যন্ত তার সুবিধাতেই যাচ্ছে তাহলে বুঝতে হবে, আপনি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন।
তাহলে কী করবেন?
প্রথম কথা, নিজেকে দোষ দেবেন না। ম্যানিপুলেশন বুদ্ধিমান মানুষও বুঝতে দেরি করে।
দ্বিতীয়ত, নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। কিছু ভুল লাগলে, সেটা হালকাভাবে উড়িয়ে দেবেন না।
তৃতীয়ত, বিশ্বাসযোগ্য মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। বাইরের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক সময় চোখ খুলে দেয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যে সম্পর্ক বা পরিস্থিতিতে আপনি নিজেকে ছোট, অপরাধী বা বিভ্রান্ত মনে করেন, সেখানে থামা জরুরি। মনে রাখবেন, সুস্থ সম্পর্ক আপনাকে শক্তিশালী করে, নিয়ন্ত্রণ করে না।
mahmudnewaz939@gmail.com


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.