প্যারামাউন্টের ১০৮ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব নাকচ করতে পারে ওয়ার্নার ব্রস

লড়াইয়ে এগিয়ে নেটফ্লিক্স

প্রকাশ :

সংশোধিত :

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের মতে, ওয়ার্নার ব্রস (ব্রাদার্স) ডিসকভারির বোর্ড বুধবারের মধ্যেই প্যারামাউন্ট স্কাইডান্সের ১০ হাজার ৮৪০ কোটি ডলারের (১০৮.৪ বিলিয়ন ডলার) অধিগ্রহণ প্রস্তাবের বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে। 

তবে বোর্ড সম্ভবত শেয়ারহোল্ডারদের এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পরামর্শ দেবে। 

নেটফ্লিক্সের সম্পূর্ণ কিনে নেওয়ার (বাইআউট) প্রস্তাবে পুনরায় সমর্থন জানানোর এই সিদ্ধান্তটি ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতায় একটি নতুন মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে। এই সম্পদের মধ্যে রয়েছে ওয়ার্নার ব্রোসের প্রখ্যাত ফিল্ম ও টিভি স্টুডিও এবং তাদের বিশাল চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের সম্ভার—যার পোর্টফোলিওতে 'কাসাব্লাঙ্কা' ও 'সিটিজেন কেন'-এর মতো ধ্রুপদী সিনেমা থেকে শুরু করে 'হ্যারি পটার' ও 'ফ্রেন্ডস'-এর মতো বর্তমানের জনপ্রিয় সব কন্টেন্ট, এইচবিও এবং এইচবিও ম্যাক্স স্ট্রিমিং পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ওয়ার্নার ব্রস ডিসকভারির মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দীর্ঘ দিন ধরে অধিগ্রহণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকা এই বিশাল কন্টেন্ট লাইব্রেরিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাধ্যমে বিজয়ী কোম্পানি স্ট্রিমিং দুনিয়ার যুদ্ধে বড় ধরনের সুবিধা পাবে।

এই মাসের শুরুর দিকে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের নন-ক্যাবল (ক্যাবল বহির্ভূত) সম্পদগুলোর জন্য নগদ অর্থ ও শেয়ার মিলিয়ে ২৭ ডলারের একটি প্রস্তাব দিয়ে নেটফ্লিক্স বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। এরপর প্যারামাউন্টের সিইও ডেভিড এলিসন পুরো কোম্পানিটি কিনে নেওয়ার জন্য শেয়ার প্রতি ৩০ ডলারের সম্পূর্ণ নগদ অর্থের প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি ওয়ার্নার ব্রাদার্সের শেয়ারহোল্ডারদের দ্বারস্থ হন।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে দাখিল করা নথিপত্রে প্যারামাউন্ট উল্লেখ করেছে, তাদের প্রস্তাবটি নেটফ্লিক্সের প্রস্তাবের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক এবং এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহজতর হবে। তাদের এই প্রস্তাবের অর্থায়নের জন্য ৪ হাজার ১০০ কোটি ডলারের (৪১ বিলিয়ন ডলার) নতুন ইক্যুইটি বা মূলধন যোগ করা হয়েছে, যার জোগান দিচ্ছে এলিসন পরিবার ও রেডবার্ড ক্যাপিটাল। এছাড়া ব্যাংক অফ আমেরিকা, সিটি এবং অ্যাপোলো থেকে ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের (৫৪ বিলিয়ন ডলার) ঋণের প্রতিশ্রুতিও পাওয়া গেছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্যারেড কুশনারের অ্যাফিনিটি পার্টনারস, যারা প্যারামাউন্টের অন্যতম অর্থায়ন সহযোগী ছিল, তারা এই অধিগ্রহণের লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে প্যারামাউন্ট এবং অ্যাফিনিটি পার্টনারস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

সর্বশেষ খবর