একত্রিশেই নিভে গেল কারিনা কায়সারের জীবন প্রদীপ

প্রকাশ :
সংশোধিত :

মাত্র ৩১ বছর বয়সেই থেমে গেল অভিনেত্রী ও কনটেন্ট নির্মাতা কারিনা কায়সারের জীবন। ফুসফুসের জটিলতা ও লিভারের সংক্রমণে আক্রান্ত এই তরুণ শিল্পীকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ মে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানেই শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
কারিনার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের মৃত্যুর খবর জানান।
তিনি লিখেছেন, “অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে। আমার মেয়ের কোনো ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
পরে তিনি জানান, রাত প্রায় ১টার দিকে কারিনার মৃত্যু হয়। হঠাৎ করেই তার রক্তচাপ কমে যায় এবং পরে সেটি আর নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি। হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কীভাবে দেশে আনা যায়, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা আলোচনা করছেন।
লিভারের জটিলতা নিয়ে এক সপ্তাহের বেশি সময় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন কারিনা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের ভেলোরে অবস্থিত খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কারিনার মা লোপা কায়সার জানিয়েছিলেন, লিভার প্রতিস্থাপন বা বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করার মতো শারীরিক সক্ষমতা তার আর ছিল না। চিকিৎসকেরা মূলত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছিলেন।
কারিনার ফুসফুসে প্রচুর তরল ও কফ জমে গিয়েছিল। সে কারণে চিকিৎসকেরা সংক্রমণ কমানোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
‘এ’ লেভেলের পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে তিনি শিক্ষানবিশ হিসেবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ইংরেজি বিভাগে কিছুদিন কাজ করেছিলেন।
দেশে ফিরে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি পেলেও পরে অভিনয়েও নিয়মিত হন কারিনা। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্য রচনাতেও নিজের অবস্থান তৈরি করছিলেন তিনি।
তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.