ভবিষ্যৎ একাডেমিক নেতৃত্বের পথচলায় ড্যাফোডিলে টিএএফ ও অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রোগ্রাম ২০২৬-এর আবেদন শুরু

প্রকাশ :

সংশোধিত :

ভবিষ্যৎ শিক্ষক, গবেষক, পেশাজীবী ও নেতৃত্ব গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ড্যাফোডিল ফ্যামিলি আবারও চালু করেছে টিচিং অ্যাপ্রেন্টিস ফেলোশিপ এবং অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রোগ্রাম ২০২৬-এর আবেদন কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই উদ্যোগ তরুণদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন, নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশাগত প্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ দিয়ে আসছে।

গত প্রায় এক দশক ধরে পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে শত শত তরুণ শিক্ষকতা, গবেষণা, প্রশাসন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিপণন, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসা উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে এসব কর্মসূচির সাবেক অংশগ্রহণকারীরা দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি খাত, গবেষণা সংস্থা এবং ড্যাফোডিল ফ্যামিলির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এবং ড্যাফোডিল ফ্যামিলির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান বলেন, তাদের লক্ষ্য শুধু চাকরিপ্রার্থী তৈরি করা নয়, বরং এমন মানুষ তৈরি করা যারা নেতৃত্ব দিতে পারবে, নতুন চিন্তা নিয়ে কাজ করতে পারবে, গবেষণায় অবদান রাখতে পারবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু ডিগ্রি নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলিই তরুণদের এগিয়ে রাখে।

তিনি জানান, দায়িত্ব নিতে আগ্রহী, নতুন কিছু শিখতে ইচ্ছুক এবং নিজের সক্ষমতা উন্নয়নে আগ্রহী তরুণদের জন্য এই কর্মসূচি একটি অনন্য সুযোগ। কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।

বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে এই দুটি কর্মসূচিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষকতা, গবেষণা, শিক্ষার্থী পরামর্শ, একাডেমিক নেতৃত্ব, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, প্রকল্পভিত্তিক কাজ, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।

এবার থেকে কর্মসূচিতে যুক্ত করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক মূল্যায়ন, ক্যারিয়ার উন্নয়ন অনুকরণ, নেতৃত্ব পর্যবেক্ষণ, সাপ্তাহিক চ্যালেঞ্জ, পরামর্শনির্ভর উন্নয়ন এবং শিল্প ও শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়। অংশগ্রহণকারীদের শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে না, বরং বাস্তব কাজ, দায়িত্ববোধ, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী, সদ্য স্নাতক, তরুণ পেশাজীবী, ভবিষ্যৎ শিক্ষক ও গবেষক, উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগ্রহী তরুণরা এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনকারীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে এবং তাদের শিক্ষা, দক্ষতা, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভিত্তিতে প্রাথমিক বাছাই করা হবে। পরবর্তীতে নির্বাচিত প্রার্থীরা মূল্যায়ন, মৌখিক পরীক্ষা এবং উপস্থাপনা পর্বে অংশ নেবেন।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষকতা ও শেখার অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও প্রকাশনার সুযোগ, শিক্ষার্থী পরামর্শের অভিজ্ঞতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর শিক্ষা চর্চা, ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতির অভিজ্ঞতা, ক্যাপস্টোন ও মাইক্রোক্রেডেনশিয়াল উন্নয়ন, একাডেমিক নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও উন্নয়ন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কাজের সুযোগ পাবেন।

আয়োজকরা মনে করেন, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে সফল হতে শুধু একাডেমিক জ্ঞান নয়, বরং বাস্তব দক্ষতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি তরুণদের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

আয়োজকদের পরিকল্পনা রয়েছে ভবিষ্যতে এই মডেলকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিভা উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আরও বিস্তৃত করার, যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেট সংস্থা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাত এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে।

টিচিং অ্যাপ্রেন্টিস ফেলোশিপ এবং অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রোগ্রাম ২০২৬-এর আবেদন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

সর্বশেষ খবর