তেজগাঁও কলেজে 'নকল ধরায়' শিক্ষককে সংঘবদ্ধ মারধর, থানায় মামলা

প্রকাশ :

সংশোধিত :

রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে এলএলবি পরীক্ষার হলে নকল ধরায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন এলএলবি শেষ বর্ষ ২০২৩ সালের পরীক্ষার দিন গত শুক্রবার এ ঘটনা ঘটেছে। ওই কেন্দ্রে ‘আইডিয়াল ল কলেজের’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। মারধরকারী শিক্ষার্থীরাও এ কলেজের বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মারধরের শিকার হওয়া সোহেল রানা নামে তেজগাঁও কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ওই শিক্ষক এ ঘটনায় সোমবার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেছেন।

মামলায় শরীফুল ইসলাম ও রাসেল মিয়া নামের দুই শিক্ষার্থীসহ নাম না জানা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সোহেল রানা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই হলে বেশ কয়েকজন নকল করে পরীক্ষা দিচ্ছিল। এরমধ্যে দুইজনকে আমি ধরে ফেলি।”

পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির লোকজন এলে ওই দুইজনকে বহিষ্কারের সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত হয়, যা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বলে ভাষ্য ওই শিক্ষকের।

যে দুইজনকে নকলসহ ধরা হয়েছিল তাদের সঙ্গে যারা ছিল, তারা অন্য হলের পরীক্ষার্থী ছিলেন বলে ধারণা তার।

সোহেল রানা বলেন, “ওই দুইজন হলেই আমাকে বলেছিল, কীভাবে কলেজ থেকে বের হই তারা দেখে নেবে। সেই ভয়ে অন্য সিঁড়ি দিয়ে নামি। এখনও ভয়ে বাসা থেকে বের হচ্ছি না। এমন হলে কীভাবে দায়িত্ব পালন করব?”

ঘটনার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন অবগত আছেন, তিনি বিষয়টি তদারকি করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ার তথ্য দিয়েছেন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা।

তিনি বলেন, “তারা মেরে পালিয়ে গেছে, শিগগিরই জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।”

এজাহারে ওই শিক্ষক অভিযোগ করেন, সেদিন ওই পরীক্ষা চলাকালীন তিনি কলেজের ৬০৮ নম্বর কক্ষে দায়িত্বরত ছিলেন। সেখানে পরীক্ষার্থী শরিফুল ও রাসেলকে ‘অসদুপায় অবলম্বন করে’ পরীক্ষা দিতে দেখেন। তিনি বিষয়টি তখনই পরীক্ষা পরিচালনা কমিটিকে অবহিত করেন এবং ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। এর প্রেক্ষিতে ওই দুই পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কারের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সুপারিশ করেন।

দায়িত্ব পালন শেষে বেলা সোয়া ১১টার দিকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণের ১২১ নম্বর কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় ওই দুই শিক্ষার্থীসহ আরো ৬-৭ জন তার পথ আটকে ধরে এবং অতর্কিত হামলা করে বলে তিনি মামলায় অভিযোগ করেন।

নকল ধরার জেরে কলেজের ওই শিক্ষককে ‘কিল-ঘুষি’ মেরে জখমের অভিযোগও করা হয়েছে মামলায়। এসময় অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এলে শিক্ষককে ‘প্রাণে মেরে ফেলাসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি’ দিয়ে মারধরকারীরা চলে যান।

পরে তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন বলে মামলায় বলেছেন শিক্ষক সোহেল রানা।

যাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ তাদের একজন শরীফুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের কালিকাপুর গ্রামে, বর্তমানে মধ্য বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা।

অপরজন রাসেল মিয়ার বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার মৈসামুড়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা।

 

সর্বশেষ খবর