শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যেই ডুয়েটে উপাচার্যের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু

প্রকাশ :
সংশোধিত :

গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যেই প্রথমবারের মতো ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি কোনো বাধার মুখে না পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন বলে জানিয়েছেন ডুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক উৎপল কুমার দাস।
তিনি জানান, সকালে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে উপাচার্যের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত সবার অনুরোধে উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসেন।
ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে স্বাগত জানান।
গত ১৪ মে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আন্দোলন শুরু করে।
আন্দোলনের মধ্যে গত রোববার উপাচার্য নিয়োগের পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার বাস্তবতা ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে অভিজ্ঞ নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত।
পরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসে ‘ব্লকেড’ ও ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সেই সময় থেকে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করে অনলাইনে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।
বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে আসার আগে তিনি গাজীপুর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে একটি বৈঠকেও অংশ নেন বলে জানা গেছে।
এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শাটডাউন কর্মসূচির পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এ কারণে বুধবার অনেক শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করে বাড়ি চলে যান।
বেলা আড়াইটার দিকে প্রায় ফাঁকা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে উপাচার্য নিজ কার্যালয়ে কাজ শুরু করেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এর আগে অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল জানিয়েছিলেন, তিনি নিয়মিত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। তার উদ্যোগে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এবং বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.