ডুয়েটে ভিসি ইস্যুতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি অবস্থান

প্রকাশ :

সংশোধিত :

গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এ নতুন উপাচার্যের যোগদান ঘিরে টানা পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন একদল শিক্ষার্থী।

আজ সোমবার (১৮ মে) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং ছাত্রদল পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

সকালে শুরু হওয়া ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা দুপুর ১টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহীদ মিনারের পাশে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আমান উল্লাহ বলেন, আন্দোলনকারীদের দাবি হচ্ছে নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল করা। একই সঙ্গে আগের দিন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান তিনি।

একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী হাসানুর রহমান অভিযোগ করেন, তাদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তার ভাষায়, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির আন্দোলন। তিনি আরও দাবি করেন, রোববারের সংঘর্ষে ছাত্রদল ও তাদের সহযোগীদের হামলায় অন্তত ১৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকে চিকিৎসা নিয়ে আবার ক্যাম্পাসে ফিরেছেন বলেও জানান তিনি। দাবি আদায় না হলে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

এরপর দুপুর দেড়টার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে ডুয়েট শিক্ষক সমিতির একাংশ সংবাদ সম্মেলন করে। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. খসরু মিয়া রোববারের সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে শিক্ষকদেরও একমত রয়েছে। তিনি জানান, ৫ মে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো শিক্ষককে নিয়োগ দিতে হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদনও পাঠানো হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উসকানি দেওয়ার পক্ষে নন।

অন্যদিকে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বাইরে সংবাদ সম্মেলন করে ডুয়েট শাখা ছাত্রদল। সেখানে সংগঠনটির সভাপতি জামিরুল ইসলাম জামিল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির অভিযোগ করেন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আড়াল করতেই ‘শিবির ও ছাত্রশক্তি’ আন্দোলনের আড়ালে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ডুয়েট শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আহাদ। তিনি বলেন, আন্দোলনটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়; শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক দাবিতেই আন্দোলন করছেন।

গত বৃহস্পতিবার অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর পর থেকেই একদল শিক্ষার্থী আন্দোলনে নামে এবং দাবি তোলে, ডুয়েটের উপাচার্য ডুয়েট থেকেই নিয়োগ দিতে হবে।

রোববার ক্যাম্পাসে যোগ দিতে গেলে আন্দোলনের মুখে নতুন উপাচার্যকে ফিরে যেতে হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি পাশের উপজেলা পরিষদে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে অনলাইনে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকও করেন।

ডুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহা. আবু তৈয়ব জানান, বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন দায়িত্ব হস্তান্তরের নথিতে স্বাক্ষর করেন। পরে সেই নথিতে নতুন উপাচার্যও স্বাক্ষর করে দায়িত্ব নেন। তবে দুজনের সরাসরি দেখা হয়নি।

সোমবার নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে না গেলেও তিনি গাজীপুরে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে জানান, তিনি একটি সভায় আছেন এবং পরে কথা বলবেন। এরপর আর ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম।

সর্বশেষ খবর