যুদ্ধের মধ্যেও রেমিটেন্সে ঊর্ধ্বগতি, এপ্রিলে এলো ৩.১৩ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশ :
সংশোধিত :

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত এপ্রিল মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা প্রায় ৩১৩ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।
এর ফলে টানা পাঁচ মাস ধরে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স এসেছে দেশে। গত অর্থবছরের এপ্রিল মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ২৭৫ কোটি ২৩ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল—এই ১০ মাসে মোট রেমিটেন্স এসেছে ২৯ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার।
বর্তমানে প্রতি ডলারে ব্যাংকগুলো ১২৩ টাকা দিচ্ছে। সে হিসেবে এপ্রিল মাসে মোট প্রায় ৩৮ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা দেশে এসেছে। প্রতিদিন গড়ে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলার বা প্রায় ১ হাজার ২৮২ কোটি টাকা।
ব্যাংকারদের মতে, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরের শেষে রেমিটেন্স ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা আগের অর্থবছরের রেকর্ড ভাঙবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৩৩ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছিল, যা তার আগের বছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, রোজার ঈদের পরও রেমিটেন্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী ছিল এবং কোরবানির ঈদ সামনে থাকায় তা আরও বাড়তে পারে। ইরান যুদ্ধের কারণে পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত রেমিটেন্সে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—টানা তিন মাসই ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স এসেছে। মার্চ মাসে তা আরও বেড়ে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা একক মাসের রেকর্ডের কাছাকাছি।
এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে।


For all latest news, follow The Financial Express Google News channel.