অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চায় সরকার

প্রকাশ :

সংশোধিত :

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। 

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে রোববার দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এই পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। 

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের ইরানের ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্সের প্রায় ৭০ শতাংশই এ অঞ্চল থেকে আসে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের ঝুঁকি নেই। বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার, যা সম্ভাব্য স্বল্পমেয়াদি ধাক্কা সামাল দিতে যথেষ্ট।

জ্বালানি নিরাপত্তাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমাতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, আর্থিক খাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব থাকা উচিত নয়। সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অর্থ পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারের বিষয়েও কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এনডিএ স্বাক্ষর করেছে।

অর্থনীতির গতি বাড়াতে কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং বন্ধ বা অচল শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আংশিকভাবে হলেও এসব কারখানা চালু করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানো এবং সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে থাকায় তা বাড়াতে প্রশাসনিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে “বাংলা কিউআর” পেমেন্ট ব্যবস্থা আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সব পেমেন্ট পয়েন্টে বাধ্যতামূলক করা হবে। জুলাই থেকে এটি বাস্তবায়নে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। এতে লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়বে, নগদ ব্যবস্থাপনার খরচ কমবে এবং রাজস্ব আদায় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-গভর্নর ড. এমদাদুল কবির আহমেদ জানান, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে বড় কোনো চাপ নেই। ব্যাংকগুলোর নেট ওপেন পজিশন বেড়ে ৮০০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় অন্তত ২ বিলিয়ন ডলার বেশি রেমিট্যান্স আসার আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আইএমএফের ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজের অবশিষ্ট দুই কিস্তি, মোট ১ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া পরবর্তী সময়ে ডলারের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় রিজার্ভ নিয়ে আপাতত উদ্বেগের কারণ নেই বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ খবর