জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় বিনিয়োগ: ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে আইডিবি

প্রকাশ :

সংশোধিত :

ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি)-এর একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে ৩ দশমিক ০ মিলিয়ন টন সক্ষমতার একটি তেল শোধনাগার স্থাপনের জন্য ১ দশমিক ০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।  যা জ্বালানি তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন।

গত ৮ থেকে ১১ মার্চ ৪ দিনের এক মিশনে আইএসডিবি এর কারিগরি দল ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড এর সক্ষমতা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেছে এবং তারা ইআরএল ইউনিট-২ প্রকল্পের জন্য কিস্তিতে এই ঋণ প্যাকেজ দিতে সম্মত হয়েছে। ইআরডি কর্মকর্তাদের মতে, আগামী মাসে আইএসডিবি বোর্ডে এই ঋণ অনুমোদনের কথা রয়েছে এবং জুনে আজারবাইজানের বাকুতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এটি চূড়ান্ত হলে তা হবে জেদ্দা-ভিত্তিক এই ব্যাংক থেকে কোনো সদস্য দেশকে দেওয়া একক বৃহত্তম প্রকল্প ঋণের অন্যতম।

শোধনাগারটি স্থাপনে পাঁচ বছর সময় লাগবে বলে এই ঋণ তিনটি কিস্তিতে ছাড় করা হবে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) এই অঙ্গ প্রতিষ্ঠানটি ৩৫৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন টাকা বিনিয়োগে তার দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপন করবে। বর্তমানে ইআরএল-এর প্রথম ইউনিটের শোধন ক্ষমতা ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন, যেখানে মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল শোধন করা হয়।

প্রকল্পটি চালু হলে রিফাইনারির বার্ষিক ক্ষমতা ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন থেকে তিনগুণ বেড়ে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন টনে উন্নীত হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ তার মোট জ্বালানি চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ শোধন করতে পারে, যার ফলে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর ব্যাপক নির্ভর করতে হয়।

কর্মকর্তারা বলছেন, এই সম্প্রসারণ কেবল সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নয় বরং পরিবেশগত মান বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনের জন্যও জরুরি। নতুন এই ইউনিট থেকে ইউরো-৫ মানের ডিজেল ও গ্যাসোলিন উৎপাদিত হবে, যা কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি বার্ষিক বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে। ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এটি চালু হলে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে, যা বিশ্ববাজারের অস্থিরতার বিপরীতে একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে। উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ঝুলে থাকা এই ইআরএল ইউনিট-২ প্রকল্পটি সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুনরুজ্জীবিত করেছে।

এর আগে ২০১০ সালে প্রথম পরিকল্পনা করা হলেও দীর্ঘ সময় কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং পরে ২০২৪ সালে এস আলম গ্রুপের সাথে এটি নির্মাণের একটি বিতর্কিত প্রস্তাব গৃহীত হলেও সরকার পতনের পর তা বাতিল করা হয়। বর্তমানে প্রকল্পটি সরকারি তহবিল এবং আইএসডিবি এর অর্থায়নে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের ৬ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন টন জ্বালানির চাহিদা থাকলেও স্থানীয়ভাবে মাত্র ১ দশমিক ২৫ মিলিয়ন টন উৎপাদিত হয়েছে। ২০৩০ সাল নাগাদ জ্বালানি চাহিদা ১০ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন টনে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার বিপরীতে এই নতুন রিফাইনারিটি দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন টনে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে। 

সর্বশেষ খবর