মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব মূল্যায়ন শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়

বিকল্প খুঁজছে সরকার

প্রকাশ :

সংশোধিত :

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং এর ফলে সৃষ্ট আর্থিক চাপ মোকাবিলার উপায়গুলো মূল্যায়ন করতে শুরু করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

সূত্র জানিয়েছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার পর বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় এই সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকের আগেই মন্ত্রণালয়কে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সেখানে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান হামলা চালায় এবং বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা ছয় দিন ধরে এই হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ইসরায়েলি অবস্থান ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যার ফলে এই সংঘাত পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এবং শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ক্ষুব্ধ হয়ে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথটি পারস্য উপসাগর থেকে উন্মুক্ত মহাসাগরে যাওয়ার একমাত্র সমুদ্রপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ বা 'চোকপয়েন্ট'।

এর ফলে জাহাজ চলাচল—বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বহনকারী জাহাজগুলোর চলাচল—সম্পূর্ণরূপে স্থগিত হয়ে গেছে। উপরন্তু, ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কাতারসহ বেশ কয়েকটি প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকারী দেশ এলএনজি উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র করেছে।

অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদনের ঘাটতির মধ্যে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির জন্য বাংলাদেশ মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে এলএনজি এবং অপরিশোধিত তেল উভয়ের দামই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যা আমদানিনির্ভর দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কাতারে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর এশিয়ার বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারের শুরুর দিকের লেনদেনে তেলের দাম ১.০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

এই সমীক্ষার সাথে যুক্ত অর্থ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এক সপ্তাহের কাছাকাছি পৌঁছানোয় তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাবটিই এখন প্রধান উদ্বেগের বিষয়।"

তিনি বলেন, এই যুদ্ধের কারণে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি ও গ্যাস দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে এবং পাওয়া গেলেও ক্রেতাদেরকে এর জন্য হয়তো অনেক বেশি দাম চোকাতে হতে পারে।

কর্মকর্তা আরও বলেন, "এর ফলে দেশের ওপর একটি বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হবে, বিশেষ করে যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়।"

কর্মকর্তাদের মতে, এই চাহিদা মেটাতে কী পরিমাণ অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজন হতে পারে তা খতিয়ে দেখতে এবং সম্ভাব্য অর্থের উৎসগুলো চিহ্নিত করতে অর্থ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

তারা জানান, এই প্রতিবেদনে যুদ্ধের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবগুলো তুলে ধরা হবে এবং পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করা হবে।

অর্থ বিভাগ ইতোমধ্যে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে জ্বালানি তেল ও এলএনজির চাহিদা এবং বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতির পরিসংখ্যান চেয়েছে।

এলএনজি ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প উপায়গুলো মূল্যায়নের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা, বর্তমান কয়লার মজুত এবং কয়লার চাহিদার ধরন সম্পর্কে তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর