চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধারে ইউকে-মডেলে জেআইটি পুনর্গঠন

প্রকাশ :

সংশোধিত :

চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে আইনি কাঠামোর আওতায় একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ উদ্যোগকে নতুন গতি দিতেই এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির মডেল অনুসরণ করার কথা ভাবছে, যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে সফল উদাহরণ তৈরি করেছে।

বর্তমানে সম্পদ ফেরত আনার কাজটি চারটি আলাদা সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং সিআইডি—এই চারটি সংস্থা যৌথ তদন্ত দলের সদস্য হিসেবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পালন করছে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া বাংলাদেশের লুট হওয়া সম্পদ ফেরত আনতে জেআইটি গঠন করে। অভিযোগ রয়েছে, এসব সম্পদ মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ মহলের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছিল।

ইকোনমিক হোয়াইট পেপার কমিটির ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ গড়ে প্রতিবছর ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থপাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেআইটি মূলত ১২ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে তদন্ত চালাচ্ছে। এ তালিকায় আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা, এস আলম, সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বেক্সিমকো, নাসা, সামিট, জেমকন, এইচএমবি ইকবাল, নাবিল, বসুন্ধরা, সিকদার গ্রুপ ও অরিয়ন গ্রুপ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “জেআইটির সদস্যরা প্রত্যেকে নিজ সংস্থার কাছে জবাবদিহি করেন। এতে সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে। এনসিএ সুপারিশ করেছে, জেআইটিকে কার্যকর করতে হলে সদস্যদের জেআইটির প্রতিই জবাবদিহি থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, এনসিএ–তেও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি থাকে, কিন্তু কাজ করতে গেলে তারা এনসিএ–র সদস্য হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেন। তাই জরুরি ভিত্তিতে জেআইটিকে পুনর্গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।

ড. আহসান এইচ মনসুর ' দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে'  জানান, “অবশেষে জেআইটিকে এনসিএ–র মডেলে উন্নীত করতেই হবে।”

সিআইসির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এনসিএ মডেলকে বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর (চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার) কাঠামো হিসেবে দেখা হয় এবং এই উদ্যোগ বাংলাদেশেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের উপদেষ্টা ফহরানুল গনি চৌধুরী জানান, উদ্যোগটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশলপত্র প্রস্তুত করতে কমপক্ষে ছয় মাস লাগবে। তিনি আরও বলেন, “আমি এনসিএ–র মডেল সংগ্রহের অনুরোধ করেছি, যা ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে।”

সম্প্রতি এক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্টরা আলোচনা করেন, বর্তমান কাঠামোয় জেআইটি কি যথাযথ ফল দিচ্ছে কিনা। তিনি জানান, গত ছয় মাস ধরে এনসিএ–র একজন বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ ব্যাংকে (চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার) কাজে সহায়তা করে যাচ্ছেন।

গভর্নরের উপদেষ্টা বলেন, “আমরা একটি কৌশলপত্র তৈরি করব এবং তা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার বিদ্যমান আইন ও বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য করব। যদি আমরা এটি প্রস্তুত করে পরবর্তী সরকারের হাতে তুলে দিতে পারি, তারা বিবেচনা করবে।”

জেআইটির ভেতরের সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ধীর অগ্রগতি ও আন্তঃসংস্থাগত মতবিরোধের কারণে তারা কিছুটা হতাশ।

সর্বশেষ খবর