বিদ্যুৎ খাতে আরও ২০ হাজার ১৩৬ কোটি ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ

প্রকাশ :

সংশোধিত :

আসন্ন সেচ ও গ্রীষ্মের পিক মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং নতুন যুক্ত হওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রাখতে ২০২৬ অর্থবছরের বাকি মাসগুলোর জন্য আরও ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

অর্থ বিভাগে পাঠানো এক প্রস্তাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় নতুন যুক্ত হওয়া উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ এবং প্রাথমিক জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যের প্রভাব মোকাবিলার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তহবিলের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

সর্বশেষ এই চাহিদাপত্রটি গভীরতর হতে থাকা আর্থিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা।

সিস্টেমে তিনটি প্রধান বেস-লোড বিদ্যুৎকেন্দ্র যুক্ত হওয়ার কারণেই মূলত এই অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এগুলো হলো—শ্রীপুর ১৬০ মেগাওয়াট এইচএফও-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পটুয়াখালী ১,৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মাতারবাড়ী ২×৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং নিয়ন্ত্রিত খুচরা বিদ্যুতের দামের মধ্যে ক্রমাগত অসামঞ্জস্যের কারণে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ক্রমবর্ধনশীল আর্থিক ঘাটতির সঙ্গে লড়াই করছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাসের দাম ২০৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ঘনমিটার ৫.০২ টাকা থেকে ১৫.৫০ টাকা হয়েছে।

মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন খরচ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নেপাল থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের ক্ষেত্রে।

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, "ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার তীব্র দরপতন এবং বাজেটে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি চাহিদার কারণে বিপিডিবির জন্য একটি বিশাল আর্থিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে।"

বিদ্যুৎ বিভাগ ২০২৬ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য মোট ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকার ভর্তুকি প্রয়োজন বলে প্রাক্কলন করেছে। এই ব্যয়কে মূলত তিনটি প্রধান খাতে ভাগ করা হয়েছে—নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিদ্যুৎ আমদানি এবং বিপিডিবি বা সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র।

শুধুমাত্র সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ চাহিদার (পিক ডিমান্ড) সময় ২,১৫৯ কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হতে পারে, যা উৎপাদন ও আমদানির ওপর মৌসুমী চাপের প্রতিফলন।

মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে যে, সময়মতো তহবিল ছাড় করতে ব্যর্থ হলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বিশেষ করে কয়লা ও ফার্নেস অয়েল সংগ্রহ ব্যাহত হতে পারে এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রোডিউসারস (আইপিপি) ও আন্তঃসীমান্ত সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধ বিলম্বিত হতে পারে।

কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের বিঘ্ন উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে এবং গ্রীষ্মের পিক মৌসুমে লোডশেডিংয়ের কারণ হতে পারে।

অর্থ বিভাগের সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবটি "সক্রিয়ভাবে বিবেচনা" করা হচ্ছে। তবে তারা উল্লেখ করেছেন যে, সরকার যখন ইতিমধ্যেই আর্থিক সংকোচনমূলক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ২০ হাজার ১০০ কোটি টাকারও বেশি বিশাল এই ভর্তুকি জাতীয় বাজেটের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করবে।

সর্বশেষ খবর