আয়কর ও ভ্যাটে যৌথ অডিট চালু করছে এনবিআর

করদাতাদের হয়রানি কমাতে এনবিআরের নতুন উদ্যোগ

প্রকাশ :

সংশোধিত :

করদাতাদের আলাদাভাবে আয়কর ও ভ্যাট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ঝামেলা কমাতে সরকারের রাজস্ব কর্তৃপক্ষ তাদের পুরোনো অডিট ব্যবস্থা সমন্বিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

আয়কর ও ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) প্রদানকারীদের জন্য যৌথ অডিট ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর পেছনে দুটি উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে করদাতাদের ঝামেলা কমানো এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করা। এই ব্যবস্থায় ব্যক্তি ও করপোরেট করদাতাদের একই প্রশ্নের উত্তর বা একই নথি আলাদাভাবে দুই দপ্তরে জমা দিতে হবে না।

নতুন ব্যবস্থায় আয়কর ও ভ্যাট কর্মকর্তারা একসাথে অডিট পরিচালনা করবেন, যাতে করদাতার আর্থিক অবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পাইলট প্রকল্প হিসেবে ১৫টি মামলা দিয়ে শুরু করা হবে।”

তিনি জানান, পাইলট প্রকল্পের জন্য করদাতা নির্বাচন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ভ্যাট ও আয়কর কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল অডিট পরিচালনা করে প্রতিবেদন জমা দেবে।

তিনি আরও বলেন, “এই মডেল সফল হলে ধীরে ধীরে যৌথ অডিটের সংখ্যা বাড়ানো হবে।”

রাজস্ব ব্যবস্থার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এনবিআরকে নীতি ও বাস্তবায়ন এই দুই ভাগে বিভক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে আলাদাভাবে পরিচালিত বৃহৎ করদাতা ইউনিটগুলোকেও (এলটিইউ) একীভূত করার পথ তৈরি হতে পারে।

এছাড়া আয়কর ও কাস্টমস শাখার মধ্যেও একটি ডাটা সমন্বয় ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে আয়কর কর্মকর্তারা কর রিটার্ন যাচাই করতে কাস্টমসের আমদানি সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করতে পারেন।

বর্তমানে আয়কর ও কাস্টমস শাখা আলাদা ডাটাবেস ব্যবহার করে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এই দুই ডাটাবেসের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা হবে।

ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সভাপতি এন কে মবিন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এতে করদাতাদের সময় ও হয়রানি কমবে।

তিনি বলেন, “আগে আয়কর ও ভ্যাটের আলাদা অডিটে একই নথি বারবার জমা দিতে হতো। নতুন ব্যবস্থা করদাতাদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে।”

তার মতে, করপোরেট করদাতাদের প্রতি বছর বিভিন্ন সংস্থার একাধিক অডিটের মুখোমুখি হতে গিয়ে অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

এনবিআরের সাবেক আয়কর সদস্য অপুর্ব কান্তি দাস বলেন, বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) ধারণাটি প্রথম চালু হয় ২০০৩ সালে রেভিনিউ রিফর্মস অ্যান্ড মডার্নাইজেশন প্রজেক্টের (আরআইআরএ)  আওতায়, যা যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি) দ্বারা অর্থায়িত ছিল।

তিনি জানান, শুরুতে এলটিইউ-তে ভ্যাট কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা কক্ষ থাকলেও পরে ভ্যাট বিভাগ নিজস্ব এলটিইউ গঠন করে।

এনবিআরের সংস্কার পরামর্শক কমিটির সদস্য ও সাবেক কাস্টমস সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে দুটি শাখা আলাদা আইনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে, তাই এগুলোকে এক প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনা উচিত।

সংস্কার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞ প্যানেল ভ্যাট ও আয়কর বিভাগকে একত্র করে একটি বিভাগ গঠনের সুপারিশ করেছে।

তিনি বলেন, “কার্যকর কেন্দ্রীয় অডিট পরিচালনার জন্য দুই শাখাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”

তবে মাঠপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ভিন্ন মতও দিয়েছেন। তাদের মতে, সারা দেশে আয়কর ও ভ্যাট কার্যালয় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় বৃহৎ পরিসরে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে।

এছাড়া বিভিন্ন ধরনের কর ফাইল, সময়সীমা ও প্রক্রিয়ার কারণে মডেলটি সফল করতে ব্যাপক পরিকল্পনা ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন হবে বলেও তারা মনে করেন। 

doulotakter11@gmail.com

সর্বশেষ খবর